বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্তে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার

বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্তে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার - the Bengali Times
কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী ইউনিটে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ নন কমিশন্ড সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী ইউনিটে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ নন-কমিশন্ড সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত একটি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার ম্যাথিউ রোবার। তিনি কানাডিয়ান ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স কমান্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, রোবারের বিরুদ্ধে কানাডার বিদেশি হস্তক্ষেপ আইন ছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা আইন এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার কানাডিয়ান ফোর্সেস মিলিটারি পুলিশ, কানাডিয়ান ফোর্সেস ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এনফোর্সমেন্ট টিমের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোবারের বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিচালন সংক্রান্ত বিশেষ বা সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার, দায়িত্বে থেকে বিশ্বাসভঙ্গ এবং তথ্য সংরক্ষণ ও স্টোরেজ নীতিমালা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়। এসব অভিযোগ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে। জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল সুরক্ষিত ও গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে বিদেশি ব্যক্তি বা পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্রটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সশস্ত্র বাহিনী আরও জানায়, যদি এই অভিযোগগুলো বিচার পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে সামরিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, মামলাটি বেসামরিক আদালতের পরিবর্তে সামরিক আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।

এ বিষয়ে কানাডিয়ান ফোর্সেস মিলিটারি পুলিশের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভানেসা হানরাহান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই অভিযানের সাফল্য যৌথ পুলিশিংয়ের শক্তিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন যখন একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখন কী অর্জন করা সম্ভব—এই অভিযান তার প্রমাণ।” তিনি আরও বলেন, “দলের সদস্যদের নিষ্ঠা ও সমন্বয়ের জন্য আমি গর্বিত। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কানাডিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।”

ঘটনাটি কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles