
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগী সদস্য করার সম্ভাবনার বিরোধিতা আরও স্পষ্টভাবে জানালেন দেশটির কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর। তিনি বলেছেন, কানাডা কখনোই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
অন্টারিওর ব্র্যান্টফোর্ডে রোববার কনজার্ভেটিভ সমর্থকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় পয়লিয়েভর এ মন্তব্য করেন। তাঁর এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সফরের সময় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্নিও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো ও এর আওতায় কানাডা কী ধরনের সুবিধা বা দায়িত্ব পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে কানাডার পার্লামেন্টে আলোচনা ও ভোটাভুটিও হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কানাডা যদি ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য হয়, তাহলে ওয়াশিংটন বিষয়টিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। অটোয়ায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কার্নি। জবাবে তিনি বলেন, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা যত গভীর হয়েছে, ততই মিত্ররা এবং পুরো ন্যাটো জোট শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর মতে, এর সুফল যুক্তরাষ্ট্রও পেয়েছে।
কার্নি আরও বলেন, কানাডার অর্থনীতি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হলে দেশটি আরও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকাও দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে পয়লিয়েভর মনে করেন, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, কানাডার সঙ্গে ইউরোপের এরই মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং ন্যাটোর মাধ্যমে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক।
কনজার্ভেটিভ নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের করব্যবস্থা, আইন এবং অভিবাসন নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কানাডার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন, বেইজিং কিংবা ব্রাসেলসে বসে নেওয়া উচিত নয়। পয়লিয়েভরের বার্তা ছিল পরিষ্কার কানাডার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডিয়ানরাই কানাডায় বসে নেবেন।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কার্নি সরকারের উদ্যোগ এবং কনজার্ভেটিভদের এই আপত্তি এখন কানাডার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতিতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তার মধ্যে অটোয়া ইউরোপের দিকে কতটা ঝুঁকবে, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

