
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে অ্যাটেনশন ডেফিসিট/হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি)–এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত উদ্দীপক ওষুধ গ্রহণকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অনলাইনে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগতভাবে মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন এসব বিষয় এই বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
বৃহস্পতিবার চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেন–এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অন্টারিওতে বিক্রি হওয়া রিটালিন ও অ্যাডেরালের মতো এডিএইচডির ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নতুন করে উদ্দীপক ওষুধের প্রেসক্রিপশন লেখার হার ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ১৫৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো গবেষণা সময়জুড়েই এডিএইচডির চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে ২০২০ সালে, যখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কঠোর লকডাউন চলছিল। সে সময় এক বছরে প্রেসক্রিপশন বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। বিপরীতে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ৭ শতাংশ।
আইসিইএস, নর্থ ইয়র্ক জেনারেল হাসপাতাল এবং দ্য হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেনের গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়ার ফলে সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিএইচডিকে একটি স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য মানসিক অবস্থান হিসেবে দেখা। পাশাপাশি, আগের বছরগুলোতে যাদের লক্ষণ থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি, তাদের অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়ায় ওষুধ গ্রহণের সংখ্যাও বেড়েছে।
তবে প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। গবেষণায় ব্যবহৃত উপাত্ত থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, সব ক্ষেত্রেই এসব ওষুধ যথাযথ মূল্যায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে কিনা। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে ভুল নির্ণয় বা অতিরিক্তভাবে ওষুধ লেখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গবেষণার অন্যতম লেখক ড. ড্যানিয়েল মাইরান সতর্ক করে বলেন, “অপ্রয়োজনীয়ভাবে এডিএইচডির ওষুধ গ্রহণ করলে অনেকেই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন। পাশাপাশি, প্রকৃত সমস্যাটি যদি অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত হয়, তবে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।”
গবেষণায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি লক্ষ্য করা গেছে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এডিএইচডির ওষুধ গ্রহণের হার বেড়েছে ৪২১ শতাংশ, আর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই হার বেড়েছে ৩৬৯ শতাংশ। গবেষকরা মনে করছেন, আগে নারীদের মধ্যে এডিএইচডি কম শনাক্ত হওয়া, সামাজিক ভূমিকা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের পরিবর্তন এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণাটি অন্টারিওতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি, সঠিক নির্ণয় ও দায়িত্বশীলভাবে ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এডিএইচডি নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি আরও সূক্ষ্ম ও তথ্যভিত্তিক করা জরুরি, যাতে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার এড়ানো যায় এবং প্রকৃত রোগীরা সঠিক সহায়তা পান।

