
অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার তিন মাসেরও বেশি সময়ের জন্য আইনসভা থেকে বিরতি নিতে যাচ্ছে। প্রাদেশিক সংসদ সদস্যরা (এমপিপি) শীতকালীন বিরতি আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলে সর্বশেষ অধিবেশনে আইনসভা বসেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সরকারি দলের হাউজ লিডার স্টিভ ক্লার্ক বলেন, এই অধিবেশন সরকারের জন্য “খুবই কার্যকর” ছিল। তার মতে, এমপিপিদের এখন তাদের নিজ নিজ কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য সময় প্রয়োজন।
স্টিভ ক্লার্ক সাংবাদিকদের জানান, “এই অধিবেশনে আমরা ১২টি সরকারি বিল, ছয়টি বেসরকারি সদস্য বিল এবং সাতটি বেসরকারি সদস্য প্রস্তাব পাস করেছি। এ ছাড়া ৫৫টি কমিটির শুনানি হয়েছে। এখন সময় এসেছে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের। একই সঙ্গে আমরা আগামী বছরের বাজেটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি।”
তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব আইনের একটি বড় অংশই পাশ হয়েছে বৃহৎ অমনিবাস বিলের মাধ্যমে, যেগুলো ফাস্ট-ট্র্যাক পদ্ধতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে এসব বিল নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত বিতর্ক ও গভীর গবেষণার সুযোগ সীমিত ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আইন দ্রুত পাশ করিয়ে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ফেডারেল সরকারও এই সপ্তাহে সংসদের বিরতিতে যাচ্ছে। তবে ফেডারেল এমপিরা আগামী ২৬ জানুয়ারি সংসদে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা প্রাদেশিক সরকারের দীর্ঘ বিরতির সঙ্গে তুলনা টানার সুযোগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার বিরোধীদল দীর্ঘ এই বিরতির তীব্র সমালোচনা করে। বিরোধীদলীয় নেতা মারিট স্টাইলিস প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডকে “ভীতু” বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “এই সরকার কাজ করতে চায় না। প্রিমিয়ার তার দায়িত্ব পালন করতে চান না। তিনি তার আসনে বসতে চান না। আমি যে প্রশ্নগুলো করছি, সেগুলোর উত্তর তিনি দিতে চান না। অন্টারিওর জনগণ যে দাবি তুলছে, সেগুলোর জবাব তিনি দিতে চান না। তিনি জবাবদিহিতার আওতায় আসতে চান না।”
স্টাইলিস আরও বলেন, দীর্ঘ বিরতির সিদ্ধান্ত তাকে মোটেও অবাক করেনি। তার ভাষায়, “দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, তারা এখানে থাকতে চান না।”
এই দীর্ঘ বিরতির ফলে অন্টারিওতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা বলছে, আইনসভা বসে থাকলে জনগণের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো সরাসরি উত্থাপন করা যেত। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, এই সময় তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করে বাজেট ও নীতিনির্ধারণে জনগণের মতামত যুক্ত করবে।
আগামী মার্চে আইনসভা পুনরায় বসার আগ পর্যন্ত এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

