
যে কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে নির্বাচনের প্রার্থীদের এবং অতপর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একাউন্টেবল করার কাজটাই বর্তমানে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই কাজটা করতেই বেশী আগ্রহী। আমি যখন বাংলাদেশে একসময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলাম তখন হাজার হাজার লোকের সামনে ঘোষণা করেছিলাম আমি ঘুষ খাব না, আমার উপজেলায় কাউকে খেতেও দিব না।
আমার ওয়াদার একটা পার্ট যেটা আমার উপর নির্ভরশীল ছিল সেটা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে সক্ষম হয়েছিলাম মহান আল্লাহর দয়ায়, তবে “কাউকে ঘুষ খেতে দিব না”, এই অংশটা বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয় নি নানান ডিপেন্ডেনসির কারণে। তবুও আমি কখনো সরকারের ভয় দেখিয়ে, কখনো ফাইল আটকে দিয়ে, কখনো আকস্মিকভাবে হাসপাতাল, নানা ধরণের প্রজেক্ট ভিজিটের মাধ্যমে, কখনো সশরীরে সকলের আগে অফিস ভিজিট করে, এমনকি কখনো নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে এবং কখনো ধমক ও গালাগালির মাধ্যমে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি যাতে অন্যরাও ঘুষ বা দুর্নীতি করতে না পারে।
এটা ছিল আমার একান্তই ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট ও প্রয়াস। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বটা সফল করা শুধুমাত্র কোন ব্যক্তির দায় নয়, সরকারী পদ্ধতি ও ব্যবস্হার দায়টাই প্রধান। সেই ব্যবস্হা বাংলাদেশে এখন আরো সুদুর পরাহত। তবে এই দায় শুধুমাত্র অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে চলে না, সচেতন জনগণকে এগিয়ে আসতে হয়। এই যে সচেতন জনগণ কথাটা বললাম, সেই সচেতন জনগণের সংখ্যা প্রকৃত পক্ষে হাতে গোণা মাত্র। অধিকাংশ মানুষ প্রচলিত ব্যবস্হার সুফল বা কুফলের ফল ভোগ করেন কিন্তু পরিবর্তনের জন্যে এগিয়ে আসতে চান না।

তারা ভাবেন তাদের হয়ে কেউ না কেউ কাজটা করে দিবেন। যাহোক কানাডা উন্নত গনতান্ত্রিক দেশ হলেও এখানকার অবস্থাও খুব একটা সুখকর নয়। এখানকার আইন বিচার ব্যবস্হা ও সরকার পরিচালনা পদ্ধতি উন্নত হলেও জনগণের কাছে যে জবাবদিহিতা সেটাতে চরম ঘাটতি রয়েছে। এর মুল কারণ দুটো, একটা হলো জবাবদিহিতা নেবার জন্যে সত্যিকার সংগঠন ও ব্যক্তির অভাব, দ্বিতীয়ত প্রথমটার কারণে জনপ্রতিনিধিরা কিছুটা সুযোগ নিচ্ছেন এবং আমলাদের সাথে মিলে মিশে যতটুকু সম্ভব সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন।
ফলে বঞ্চিত হচ্ছে আপামর জনতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত মানুষজন। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো প্রেসার গ্রুপ গড়ে তোলা। আর তারই অংশ হিসেবে আমরা গতকাল রবিবার টরন্টোর একটা লাইব্রেরিতে আয়োজন করেছিলাম “Building our Table” সেশন। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল স্হানীয় সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের কয়েকজন প্রার্থীকে।
চারজন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উপস্হিত হয়েছিলেন। তার মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর পার্থী কান্দাভাল, কেভিন রুপাসিংগে, শারমিনা নাসরিন এবং অপর একজন প্রার্থী। ধন্যবাদ মুলত ম্যাক্স ও সৃজনিকে যারা এই অসাধারণ উদ্যোগটা নিয়েছিলেন। ধন্যবাদ জানাই প্রার্থীদেরকেও আমাদের মাধ্যমে জনগণকে সময় দিয়ে কৈফিয়ত দিতে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

