গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন চুক্তিকে উৎসাহব্যঞ্জক বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন চুক্তিকে উৎসাহব্যঞ্জক বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী - the Bengali Times
গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন কানাডার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি

গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন কানাডার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি। তাঁর মতে, আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তাকে ন্যাটোর দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

পার্লামেন্ট হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাকগিনটি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ড নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার একটি পথ খুঁজে পেয়েছে এটি উৎসাহব্যঞ্জক। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলো পরস্পরের আরও কাছাকাছি আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

- Advertisement -

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি। এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের জন্য ডেনমার্কের ওপর চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।

তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেনের কার্যালয় জানিয়েছে, তিন পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি কার্যকর করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ফলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে ডেনমার্কের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকগিনটির বক্তব্যে আর্কটিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চল ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ এ বিষয়টি জোটের মিত্রদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আর্কটিক অঞ্চলে দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় আসে। তিনি প্রকাশ্যে ডেনমার্ককে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রতার কারণে তাঁর এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

সাম্প্রতিক সমঝোতার উদ্যোগে অবশ্য গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টিই সামনে রয়েছে। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক তৎপরতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই প্রশ্নও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles