
পাখি: ঠোঁট ছুঁতে মানা করেছি। ঠোঁট ছুঁলে কেন?
পাখা: ঠোঁটে করে জল এনেছ, আমার অনেক তৃষ্ণা ছিল। সারাদিনের ক্লান্তি ছিল।
পাখি: আমাকে বলতে পারতে। একটা ভাঙা পাত্রে রেখে দিতাম। তুমিও জল পেতে। আমারও ইজ্জত বাঁচত।
পাখা: বাহ্! আমাদের আবার ইজ্জত আছে নাকি! শুনেছি, মানুষ ওসব নিয়ে বড়াই করে। আমরা তো পাখ-পাখালী।
পাখার কথা শুনে পাখি লজ্জা পায়। মাথা নিচু করে রাখে। তারপর পাখার চোখকে আড়াল করে বলে;
পাখি: ইজ্জত না হয় নেই, কিন্তু ইচ্ছে তো আছে। যা মানুষ আমাদের কাছ থেকে শেখে।
পাখা: ইচ্ছে? সে তো একটাই। যেখানে-সেখানে উড়ে যাওয়ার সাধ।
পাখি: ভালোবাসা না বাসা, সেটাও ইচ্ছের ফল। তাই তো বলছি, ঠোঁট ছুঁলে কেন? এতে অনেক পাপ হলো।
পাখা: ওটা ছিল ভালোবাসার জন্য কাছে আসা। ধরে নাও, বুকে অনেক তৃষ্ণা ছিল। মনে ছিল ভালোবাসার সাধ। দুঃখ বেদনা, ইচ্ছে সবই মানবের মতো।
পাখা নিয়ে জন্মেছি, তাই পাখি হয়ে আছি।
মান থাকলে হতাম মানব।
এসো, ওদের ভালোবাসা থেকে কিছু চুরি করি।
ঠোঁট ছুঁয়ে বলি শুভরাত্রি।
আমাদেরও থাকুক একটা রবীন্দ্রনাথ।
নায়াগ্রার জলপ্রপাত দেখার সাধ।
বনেতে বাস করি, গাছে গাছে বসে থাকি, তবু না হয় নাই-বা হলাম বন্য।
এসো, মানুষের মতো কিছু আচরণ করি। শুধু ঝড়-বৃষ্টিতে মাথা গোঁজার নীড় নয়। আমাদেরও হবে শক্ত বাড়ি। আমরাও দু’পায়ে হেঁটে চলে যাব সমুদ্রতীরে। যাব শিল্পকলা একাডেমিতে। বছরে একবার লালন আখড়ায়।
পাখি: তুমি কিন্তু বেশ মানুষের মতো কথা বলছ। তুমি একটা পাখা-মানুষ। হাহাহা।
আমাকে যেতে দাও। সন্ধ্যা নেমে এল। মা জানতে পারলে বকবেন। আজকাল কথায় কথায় বলেন, মনে রাখবি, তুই বড় হয়েছিস।
আমি ভুলে যাব তুমি আমার ঠোঁট ছুঁয়েছ। শুধু মনে রাখব, তোমার বুকে তৃষ্ণা ছিল।
পাখা: যাও তবে। জেনে যেয়ো, তৃষ্ণারও পুনর্জন্ম হয়। এটাও মানুষের কাছ থেকে শেখা।

