‘বাই কানাডা’ স্ক্যানার অ্যাপে সয়লাব অনলাইন

‘বাই কানাডা’ স্ক্যানার অ্যাপে সয়লাব অনলাইন - the Bengali Times
গত বছর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর কানাডায় তৈরি পণ্য খুঁজে বের করতে সহায়তার দাবি নিয়ে বেশ কিছু নতুন অ্যাপ বাজারে এসেছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা ও নতুন শুল্কের প্রভাবের মধ্যে কানাডার অনেক ভোক্তাই এখন স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু গ্রোসারি দোকানে গিয়ে কোন পণ্যকে সত্যিকার অর্থে ‘কানাডিয়ান’ বলা যায়, তা নির্ধারণ করাই ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে।

ধরা যাক, একটি ভোক্তা হাইঞ্জ টমেটো কেচাপের বোতল হাতে নিলেন। একটি অ্যাপ বলছে, এটি কানাডায় তৈরি। আরেকটি অ্যাপের হিসাবে পণ্যটি ‘আংশিক কানাডিয়ান’। অন্য একটি অ্যাপ আবার সেটিকে অ-কানাডিয়ান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করছে। এই বিভ্রান্তির পেছনে মূল কারণ হলো ‘কানাডিয়ান পণ্য’ বলতে আসলে কী বোঝানো হবে, সে বিষয়ে সবার কাছে একই সংজ্ঞা নেই।

- Advertisement -

গত বছর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর কানাডায় তৈরি পণ্য খুঁজে বের করতে সহায়তার দাবি নিয়ে বেশ কিছু নতুন অ্যাপ বাজারে এসেছে। সাধারণত এসব অ্যাপে কোনো পণ্যের বারকোড বা লোগো স্ক্যান করলেই সেটি কানাডিয়ান কি না, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

তবে সব অ্যাপ একই পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। কোনো পণ্যের উৎপাদন যদি কানাডার কারখানায় হয়, কিন্তু সেটির মূল মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ থাকে বিদেশি কোনো কোম্পানির হাতে, তাহলে একটি অ্যাপ সেটিকে কানাডিয়ান হিসেবে দেখাতে পারে। অন্য কোনো অ্যাপ আবার একই পণ্যকে ‘আংশিক কানাডিয়ান’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

আবার কিছু অ্যাপ শুধু উৎপাদনের স্থান নয়, পণ্য তৈরির উপাদান কোথা থেকে এসেছে, কোম্পানির মালিকানা কার হাতে এবং পণ্য বিক্রি করে অর্জিত অর্থ শেষ পর্যন্ত কোন দেশে যায় এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেয়। ফলে একই পণ্য সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপে ভিন্ন ফলাফল দেখা অস্বাভাবিক নয়।

ভোক্তা আচরণ নিয়ে গবেষণা করা ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বনি সিম্পসনের মতে, কোনো পণ্যকে কানাডিয়ান হিসেবে চিহ্নিত করার একটিমাত্র নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। একজন ভোক্তা যে বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, অন্যজনের কাছে সেটি হয়তো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সিম্পসন বলেন, একটি পণ্য কানাডিয়ান কি না, তা নির্ধারণের অসংখ্য উপায় থাকতে পারে। কেউ হয়তো উৎপাদনের স্থানকে গুরুত্ব দেবেন, কেউ কোম্পানির মালিকানা দেখবেন, আবার কেউ পণ্যের উপাদান ও অর্থের প্রবাহকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

এ কারণেই বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে অভিন্ন ফল পাওয়া কঠিন। অ্যাপ নির্মাতারা নিজেদের নির্ধারিত মানদণ্ড ও তথ্য বিশ্লেষণের পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্যের ‘কানাডিয়ান’ পরিচয় নির্ধারণ করছেন।

ফলে গ্রোসারি কেনাকাটার সময় শুধু একটি অ্যাপের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ভোক্তাদের পণ্যের লেবেল, উৎপাদনের দেশ, কোম্পানির মালিকানা এবং উপাদানের উৎস সবকিছু মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ, কোনো পণ্যের গায়ে ‘মেড ইন কানাডা’ লেখা থাকলেই সেটি যে সব অর্থে কানাডিয়ান বিষয়টি এতটা সরল নয়। বর্তমান বাণিজ্য বাস্তবতায় ‘কানাডিয়ান পণ্য’ আসলে কোন অর্থে কানাডিয়ান, সেই সিদ্ধান্তও অনেকাংশে নির্ভর করছে ভোক্তার নিজের অগ্রাধিকারের ওপর।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles