সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার নিয়ে উদ্বেগ

সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার নিয়ে উদ্বেগ - the Bengali Times
কানাডায় বহু বছর ধরেই সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না বরং স্থবিরতায় পড়ে আছে নতুন এক জাতীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য

কানাডায় বহু বছর ধরেই সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না, বরং স্থবিরতায় পড়ে আছে নতুন এক জাতীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মূলের যে জাতীয় লক্ষ্য কানাডা নির্ধারণ করেছে, তা অধরাই থেকে যেতে পারে।

সোমবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের কানাডিয়ান ক্যানসার স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট অনুসারে, ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কানাডায় সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার ধারাবাহিকভাবে কমছিল। ওই সময় প্রতিবছর গড়ে ২.২ শতাংশ হারে কমেছে রোগটি।

- Advertisement -

কিন্তু ২০০৫ সালের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ২০০৫–২০২১ সময়কালে বার্ষিক কমার হার নেমে আসে মাত্র ০.৩ শতাংশে। কিছু বছর আবার সামান্য বাড়ার ঘটনাও দেখা গেছে কখনো ০.৮% পর্যন্ত কমেছে, আবার কখনো ০.৪% পর্যন্ত বেড়েছে হার।

২০২৩ সালের আগের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার উল্টো ৩.৭ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক দশকে নারীদের মধ্যে রোগটির সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধির সময় হিসেবে নথিভুক্ত।

নতুন প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ১,৬৫০ জন নারী সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন বলে অনুমান করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,৩২০ জন। অর্থাৎ প্রায় দুই দশকে আক্রান্তের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বেড়েছে।

কানাডিয়ান ক্যানসার সোসাইটির সার্ভিল্যান্স পরিচালক ও রোগতত্ত্ববিদ ডা. জেনিফার গিলিস সিটিভি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের উপলব্ধি করাচ্ছে যে, আমরা একসময় যেভাবে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের হার কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম বর্তমানে সেই অগ্রগতি আমরাই ধরে রাখতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “২০৪০ সালের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মূলের যে জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এখনই আরও জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ সার্ভিক্যাল ক্যানসারই একমাত্র ক্যানসার, যেটিকে আমরা বাস্তবে নির্মূল করতে পারি যদি সঠিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা যায়।”

প্রতিবেদনটি বলছে, ২০২৫ সালে কানাডায় মোট ২ লাখ ৫৪ হাজার মানুষের মধ্যে নতুন ক্যানসার শনাক্ত হতে পারে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেশের জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের হার বাড়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সার্ভিক্যাল ক্যানসার না কমার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন – এইচপিভি টিকাগ্রহণে বৈষম্য, স্ক্রিনিংয়ে অনিয়ম বা অংশগ্রহণ কমে যাওয়া, সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের পার্থক্য। সার্ভিক্যাল ক্যানসার মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) দ্বারা সৃষ্ট, এবং টিকা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি প্রায় পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। তবুও সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখাচ্ছে, কানাডা তার আগের মতো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে না।

স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি তবে পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং HPV টিকার কভারেজ বাড়ানো। নইলে ২০৪০ সালের সার্ভিক্যাল ক্যানসার নির্মূলের স্বপ্ন কানাডার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles