
ছুটির মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে যেমন কেনাকাটার চাপ বাড়ছে, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিও। আর্থিক প্রতারণা শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি দক্ষ ও সক্রিয়। তাই বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত এই কেনাকাটার মৌসুমে ভোক্তাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএমও ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ল্যারি জেলভিন জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন প্রতারকদের হাতে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, “এআই-সহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি প্রতারণা চেনা কঠিন করে তুলছে। ঝুঁকি সারাবছরই থাকে, কিন্তু ছুটির মৌসুমে কেনাকাটা বাড়ার কারণে অপরাধীরাও তখন আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।”
জেলভিন বলেন, প্রতারকরা এখন সহজেই আসল দোকানের মতো দেখতে ভুয়া রিটেইলার ওয়েবসাইট বানাচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের পরিচিত ব্র্যান্ড বা জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করে পাঠাচ্ছে ফিশিং ইমেইল এবং ডিপফেক ভিডিও যা দেখে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
এমনকি প্রতারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে কিউআর কোডও। তিনি জানান, “কিউআর কোড স্ক্যান করলে যে লিঙ্ক আসে, সেটি অনেকেই যাচাই করেন না। প্রতারকরা এই সুযোগে ক্ষতিকর লিঙ্ক ঢুকিয়ে দেয়, আর ভোক্তারা অজান্তেই সেটিতে প্রবেশ করে আর্থিক তথ্য হারান।”
নতুন প্রতারণার তালিকায় রয়েছে টিকটক শপে নকল পণ্য বিক্রি ও ডিজিটাল চুরি। জেলভিনের মতে, এখন কন্টাক্টলেস পেমেন্ট খুব সাধারণ হয়ে যাওয়ায় প্রতারকেরা ফাঁক খুঁজে ফোনের তথ্য চুরি করতে পারছে। শপিং মল বা গণপরিবহনের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই কেউ একজন অন্যের ফোন থেকে ডেটা স্ক্যান করে নিতে পারে যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। তিনি বলেন, “আগে যেখানে ভিড়ে মানিব্যাগ চুরি হতো, এখন সেখানে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যই মূল লক্ষ্য। ফোনে থাকা ব্যাংকিং তথ্য বা অ্যাপের অ্যাক্সেস পেলে মুহূর্তেই বড় ক্ষতি করে ফেলা যায়।”
জেলভিন জানান, শুধুমাত্র গত বছর কানাডায় থ্যাংকসগিভিং ও সাইবার মানডের মধ্যবর্তী সময়জুড়ে অনলাইন লেনদেনের ২.৬ শতাংশই ছিল প্রতারণামূলক। এই হার আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি যা পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর মতে, প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি বয়স্ক ক্রেতাদেরকে লক্ষ্য করে, কারণ তারা প্রযুক্তি-নির্ভর প্রতারণা তুলনামূলক কম বুঝতে পারেন।
এও পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন – সন্দেহজনক ইমেইল বা ভিডিওতে ক্লিক না করা, কিউআর কোড স্ক্যান করার আগে উৎস যাচাই করা, ভুয়া ওয়েবসাইট শনাক্ত করতে URL ভালোভাবে দেখা, কন্টাক্টলেস পেমেন্ট ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা এবং ভিড়ের মধ্যে ফোনের নিরাপত্তা ফিচার সক্রিয় রাখা।
ছুটির মৌসুমে ক্রেতাদের প্রবাহ যেমন বাড়ে, তেমনি অপরাধীদের জালিয়াতির কৌশলও ভিন্ন রূপ নেয়। তাই অনলাইন–অফলাইন বাজারে কেনাকাটার সময় ভোক্তাদের নিজের তথ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি জরুরি।

