
রাশিয়া থেকে নতুন করে সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কার মধ্যে নরওয়েসহ আর্কটিক অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দিচ্ছে কানাডা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আর্কটিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন কানাডার অন্যতম অগ্রাধিকার।
অটোয়ায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া ড্রোন বা রকেট ব্যবহার করে হাইব্রিড হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
জবাবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোর বলেন, এ ধরনের সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নরওয়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও হাইব্রিড কর্মকাণ্ড থেকে বাস্তব হুমকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখছে বলে জানান তিনি।
তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার হুমকি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি কার্নি। তিনি অবশ্য স্টোরের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং বলেন, মিত্রদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অন্যতম সুবিধা হলো উন্নত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো ধারণা এবং যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ।
কার্নি বলেন, এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে সাবমেরিন ও মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতার পাশাপাশি আর্কটিক দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা কম রাখার নীতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য সবসময়ই ‘হাই নর্থ, লো টেনশন’ অর্থাৎ উত্তরাঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানো এবং উত্তেজনা কমিয়ে রাখা।
সাবমেরিন নিয়েও কানাডা ও নরওয়ের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিক তৈরি হয়েছে। গত জুলাইয়ে কার্নি দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে একটি ইউরোপীয় শিপবিল্ডারের কাছ থেকে ১২টি সাবমেরিন কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েক মাসের প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার পর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তে জার্মান একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়, যার নরওয়ের সঙ্গেও অংশীদারত্ব রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ে মিলে সাবমেরিনগুলোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখবে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে কার্নি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সেন্ট-পিয়ের ও মিকেলনে সফর করেন। এরপর অটোয়ায় স্টোরের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কানাডা ও নরওয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তিতে সই করেছে। এর মধ্যে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকা বিষয়ক বিজ্ঞান ও গবেষণা, মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে যৌথ অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্য। দুই দেশ আগামী বছরে আরও বিস্তৃত একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে কানাডা ও নরওয়ে বলেছে, আর্কটিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।
উভয় দেশের মতে, আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয় নয়; এটি কানাডা ও নরওয়ের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। ফলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং আর্কটিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

