যৌন অপরাধীদের রেজিস্ট্রি প্রকাশ করতে চায় অন্টারিও

যৌন অপরাধীদের রেজিস্ট্রি প্রকাশ করতে চায় অন্টারিও - the Bengali Times
অন্টারিও সরকার প্রদেশের যৌন অপরাধী তালিকাকে আংশিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে

অন্টারিও সরকার প্রদেশের যৌন অপরাধী তালিকাকে আংশিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই ফোর্ড সরকার এ বিষয়ে নতুন আইন আনতে পারে। প্রস্তাবিত এই আইনের মাধ্যমে অন্টারিও সেক্স অফেন্ডার এন্ড সেক্স ট্রাফিকার রেজিস্ট্রি এর কিছু তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে জনমত সংগ্রহও করা হতে পারে।

সোমবার কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেন, “আপনার বাড়ির পাশে যদি কোনো যৌন অপরাধী বসবাস করে এবং আপনার ঘরে যদি ছোট শিশু থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই এ ব্যাপারে জানতে চাইবেন। মানুষকে নিরাপদ রাখতে আমরা যৌন অপরাধীদের তথ্য জনসমক্ষে আনতে চাই।”

- Advertisement -

ফোর্ড আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত চার্টারের মাধ্যমে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, আইনি চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে প্রয়োজনে সরকার ‘নটউইথস্ট্যান্ডিং ক্লজ’ ব্যবহার করবে। তার কথায়, “আমরা সম্ভবত আবারো আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। কিন্তু ভুক্তভোগী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমি তা করব এটা নিশ্চিত।”

অন্টারিওর সলিসিটর জেনারেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কমিউনিটির নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, বিপজ্জনক অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আরও দৃঢ়ভাবে আনা।

২০০১ সালে ‘ক্রিস্টোফার’স ল’–এর আওতায় অন্টারিও সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের একটি তথ্যভান্ডার পুলিশের কাছে রাখা এবং নিয়মিত তাদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা।

বর্তমানে এই রেজিস্ট্রির তথ্য কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য উন্মুক্ত; সাধারণ মানুষের এতে প্রবেশাধিকার নেই।

কানাডার সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি শিশু পর্নোগ্রাফি মামলায় বাধ্যতামূলক ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর অন্টারিওর বেশ কিছু মিউনিসিপালিটি যৌন অপরাধ সংক্রান্ত আইন কঠোর করার দাবি জানাতে শুরু করে।

ফোর্ড সরকার বলছে, আদালতের এই রায়ের পর যৌন অপরাধীদের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও নজরদারি জরুরি হয়ে উঠেছে।

সরকার সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই প্রদেশীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট বিল আনা হবে। এরপর শুরু হবে জনমত সংগ্রহ ও পরামর্শ প্রক্রিয়া কোন তথ্য কতটা প্রকাশ করা হবে, তার কাঠামো তৈরি হবে এই প্রক্রিয়াতেই।

ফোর্ড সরকারের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জননিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেখানে পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে অন্যদিকে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা ও চার্টার-সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে।

আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যুটি অন্টারিও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles