পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখে বিদেশে কানাডার গোয়েন্দা সক্ষমতা

পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখে বিদেশে কানাডার গোয়েন্দা সক্ষমতা - the Bengali Times
গত জুনে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিটি এই পর্যালোচনার কথা জানায় কমিটির চেয়ারম্যান ও লিবারেল এমপি ড্যারেন ফিশারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে

বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কানাডার বর্তমান সক্ষমতা কতটা কার্যকর এবং এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির সংসদ সদস্য ও সিনেটররা। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে কানাডার জন্য আলাদা একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এমপি ও সিনেটরদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স কমিটি অব পার্লামেন্টারিয়ান্স বর্তমানে কানাডার বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা পর্যালোচনা করছে। তবে কমিটির কার্যক্রম অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় এর পর্যালোচনা কত দিন চলবে বা তদন্তে কী ধরনের তথ্য উঠে আসছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

- Advertisement -

গত জুনে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিটি এই পর্যালোচনার কথা জানায়। কমিটির চেয়ারম্যান ও লিবারেল এমপি ড্যারেন ফিশারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যদের সামনে কানাডার নিজস্ব একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের ওপর সাম্প্রতিক একটি একাডেমিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কানাডার বর্তমান কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা বোঝার ক্ষেত্রে ওই গবেষণাকে পটভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাবলিক সেফটি কানাডা সম্প্রতি যেসব সরকারি নথি প্রকাশ করেছে, সেখান থেকেও এ বিষয়ে সরকারের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রকাশিত নথিগুলোতে বিদেশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, তা বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কানাডার সক্ষমতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন ধারণা নিয়ে মন্ত্রীদের অবহিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বর্তমানে কানাডার বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব একক কোনো সংস্থার হাতে নেই। কমিউনিকেশন্স সিকিউরিটি এস্টাবলিশমেন্ট ইলেকট্রনিক ও সাইবার পদ্ধতিতে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা। আর প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব রয়েছে কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর ওপর।

এই ব্যবস্থার বাইরে একটি পৃথক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটি কীভাবে কাজ করবে এবং বিদ্যমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে এ নিয়ে কানাডায় বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে।

বর্তমান সংসদীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই পুরোনো বিতর্কই নতুন করে সামনে এসেছে। তবে কমিটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কানাডা শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিষ্ঠার পথে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles