
অন্টারিওর আপেল মৌসুম এখনো চলছে পুরোদমে। শহরের আশপাশে থাকা অনেক পরিবারই ছুটির দিনে সন্তানদের নিয়ে বাগানে যান নিজের হাতে তাজা আপেল পাড়তে যাকে বলা হয় পিক-ইয়র-ওন অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই আনন্দঘন মৌসুমের মাঝেই কৃষকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে এক নতুন সমস্যা আপেল চুরি।
বাউনভিলের ম্যাপল গ্রোভ অরচাডের মালিক জেসিকা ফারমার জানিয়েছেন, এ বছর চুরির ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “চলতি বছর চুরির ঘটনা অত্যধিক বেশি। তবে আমি নিশ্চিত নই, এটা কি অর্থনৈতিক চাপের কারণে, নাকি লোকজনের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এমন হচ্ছে।”
ফারমারের খামারটি অন্টারিওর প্রথম প্রজন্মের কিছু বাগানের মধ্যে অন্যতম। সপ্তাহান্তে সেখানে গড়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ আসেন আপেল তুলতে। কিন্তু অনেকেই বাগানে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে মূল্য না দিয়েই আপেল নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি, লোকজন পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ পকেটে নিয়ে আসে। বাগানে ঢুকে গোপনে সেই ব্যাগে আপেল ভরে ফেলে। কেউ কেউ স্ট্রলার, ওয়াগন, এমনকি নিজেদের জ্যাকেট ও সোয়েটার পর্যন্ত আপেল ভরে নিয়ে যাচ্ছেন।”
এই পরিস্থিতি সামলাতে ফারমার ও তার কর্মীরা মাঝে মাঝে নিজেরাই হস্তক্ষেপ করছেন।
“আমরা ভদ্রভাবে তাদের কাছে যাই এবং ব্যাখ্যা করি যে, এমন কাজের কোনো অনুমতি নেই। আমরা বলি, এটা মূলত এক ধরনের চুরি,” বলেন ফারমার।
তিনি জানান, অনেকেই কথার মূল্য দেন না, কেউ কেউ আবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। ফলে তারা বাধ্য হয়েছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে।
চুরির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাপল গ্রোভ অরচাড ও অন্টারিওর আরও কয়েকটি খামার নতুন নিয়ম চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে – একশ একরজুড়ে থাকা জমিতে বেড়া দেওয়া, প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য একটিমাত্র নির্দিষ্ট পথ রাখা, বাগানে প্রবেশের আগে ব্র্যান্ডেড ব্যাগের অগ্রিম মূল্য নেওয়া, বাইরের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, এবং নজরদারি বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ।
ফারমার বলেন, “প্রতিটি আপেল চুরি মানে আমাদের পকেট থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়া শুধু আমাদের নয়, পুরো কমিউনিটিরও ক্ষতি।”
স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই অনেক সময় এমন আচরণের পেছনে কাজ করে। তবে বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক নৈতিকতারও একটি প্রতিফলন।
অন্টারিওর কৃষি সংগঠনগুলো এখন কৃষকদের সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে “পিক-ইয়র-ওন” সংস্কৃতির আসল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের সহায়তা করা, নয়তো তাদের ক্ষতির কারণ হওয়া নয়।
অন্টারিওর আপেল মৌসুম এখনো মনোরম বাগানের রঙিন দৃশ্য, পরিবারগুলোর হাসিমুখ, আর শরতের হালকা শীতল হাওয়া মিলে যেন এক উৎসবের আবহ। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আপেল চুরির প্রবণতা কৃষকদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
যদি এই প্রবণতা বন্ধ না হয়, তবে “নিজের হাতে আপেল তোলা” সেই জনপ্রিয় ঐতিহ্য হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে কেবল নিরাপত্তার বেড়ার আড়ালে।

