কুকুর ও বিড়ালের ওপর গবেষণা পরীক্ষা নিষিদ্ধ করছে অন্টারিও

কুকুর ও বিড়ালের ওপর গবেষণা পরীক্ষা নিষিদ্ধ করছে অন্টারিও - the Bengali Times
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে কুকুর ও বিড়ালের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে কুকুর ও বিড়ালের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। গত সোমবার অন্টারিওর লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোর্ড এই ঘোষণা দেন। তিনি বিষয়টিকে “নিষ্ঠুর ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন এবং জানান, প্রদেশে আর কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পোষা প্রাণীদের এভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

প্রিমিয়ার ফোর্ড বলেন, “পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আপনি এখন থেকে আর কুকুর ও বিড়ালের মতো পোষা প্রাণীকে ব্যবহার করতে পারবেন না। বিষয়টি পরিস্কার এটা নিষ্ঠুর, অগ্রহণযোগ্য এবং আমরা এটি বরদাস্ত করব না।”

- Advertisement -

এ বছরের শুরুতে সেন্ট জোসেফ’স হেলথ কেয়ার লন্ডনের লসন রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর বিরুদ্ধে কুকুরের ওপর হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত (কার্ডিয়াক) গবেষণার অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির দুইজন হুইসেলব্লোয়ার প্রাণী অধিকার সংগঠন অ্যানিম্যাল জাস্টিস-এর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

অ্যানিম্যাল জাস্টিস পরে তাদের কর্মীদের ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম টিমের সঙ্গে যুক্ত করে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে বলে। ফলস্বরূপ, এ মাসের গোড়ার দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কুকুর, যাদের অধিকাংশই ছিল অল্পবয়সী শাবক, তাদেরকে পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হতো। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, গবেষণার গভীরে যাওয়ার আগে তাদের হত্যা করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা হতো।

বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। তারা অবশেষে কুকুরের ওপর গবেষণা বন্ধের ঘোষণা দেয়।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। তাদের দাবি “আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রযোজ্য সব আইন ও বিধিবিধান মেনে পরীক্ষা পরিচালনা করেছি। মানুষে ব্যবহারের আগে নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি বা ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলথ কানাডা এবং ইউ.এস. ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) উভয় সংস্থাই প্রাণী-পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রোটোকল অনুমোদন করে থাকে।” তারা আরও জানায়, “যখনই বৈজ্ঞানিকভাবে বৈধ কোনো বিকল্প পদ্ধতি থাকে, তখন প্রাণীদের ব্যবহার করা হয় না।”

প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড হুইসেলব্লোয়ারদের প্রশংসা করে বলেন, “আমাকে ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে বিষয়টি জানানোয় ওই হুইসেলব্লোয়ারকে ধন্যবাদ। তিনি একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন।” ফোর্ড আরও সতর্ক করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো গবেষক বা প্রতিষ্ঠান যদি এই ধরনের নিষ্ঠুর কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্টারিও সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় এটি বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সীমারেখা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চিকিৎসা গবেষণায় প্রাণী ব্যবহার বহু পুরনো প্রথা হলেও আধুনিক যুগে এটি নৈতিক ও মানসিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে এখন কম্পিউটার সিমুলেশন, অর্গান-অন-চিপ বা 3D সেল কালচার মডেলের মতো বিকল্প পরীক্ষার পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে, যা প্রাণী পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

অন্টারিও সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রাণী অধিকার আন্দোলনের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন গবেষণার নৈতিক সীমা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানকে আরও মানবিক ও সহানুভূতিশীল পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles