সাধ্যাতীত দাবি জানাচ্ছে ইউনিয়ন: কানাডা পোস্ট

সাধ্যাতীত দাবি জানাচ্ছে ইউনিয়ন: কানাডা পোস্ট - the Bengali Times
কানাডা পোস্ট ও কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্স সিইইউপিডব্লিউ এর মধ্যে চলমান শ্রম আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে

কানাডা পোস্ট ও কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্স (সিইইউপিডব্লিউ)-এর মধ্যে চলমান শ্রম আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ডাক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা ইউনিয়নকে মেনে নিতে হবে কারণ তাদের দাবি “সাধ্যাতীত” এবং কোম্পানির বর্তমান অবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুধবার সন্ধ্যায় এক ইমেইল বিবৃতিতে কানাডা পোস্ট জানায়, দিনের শুরুতে তারা সিইইউপিডব্লিউর সঙ্গে বৈঠক করেছে। দীর্ঘ মাসের কঠিন দর-কষাকষি, ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং উৎপাদনশীলতার চাপের মধ্যেও কর্পোরেশন একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম যা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখবে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিতে সহায়তা করবে, এবং চলমান অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাবে।”

- Advertisement -

কিন্তু কানাডা পোস্টের দাবি, ইউনিয়ন তাদের অবস্থান থেকে সরেনি; বরং আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন নতুন দাবি তুলেছে। এর ফলে পক্ষগুলোর মধ্যে পার্থক্য আরও বেড়েছে।

“সিইইউপিডব্লিউর প্রস্তাবগুলো আমরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছি,” বিবৃতিতে বলা হয়। “আমরা ইউনিয়নকে আহ্বান জানাচ্ছি তাদের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করতে, যাতে তা কোম্পানির বর্তমান আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে, যদি তারা সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে আসে।”

অন্যদিকে, কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্স কানাডা পোস্টের এই অবস্থানকে “ভিত্তিহীন” ও “কৌশলগত চাপ প্রয়োগ” বলে আখ্যা দিয়েছে। পৃথক এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক মন্তব্যই প্রমাণ করছে যে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে সৎ উদ্দেশ্যে দর-কষাকষিতে আগ্রহী নয়।

ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ২৮ মে দেওয়া তথাকথিত চূড়ান্ত প্রস্তাব থেকে একচুলও সরেনি, যদিও কর্মীদের ভোটে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাছাড়া আমরা ২০ আগস্ট যে সমন্বিত প্রস্তাব জমা দিয়েছি, তার প্রতিও কর্পোরেশন কোনো অর্থপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।”

কানাডা পোস্ট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছে। অনলাইন যোগাযোগের বিস্তার, কাগজপত্রের ডাক হ্রাস এবং ই-কমার্স প্যাকেজ ডেলিভারিতে বেসরকারি প্রতিযোগীদের আগ্রাসন সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে, কর্মীরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং পেনশন সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে অনড়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা পোস্টের জন্য এই দর-কষাকষি একটি বড় পরীক্ষা। একদিকে ক্রমবর্ধমান খরচ ও বাজার প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে কর্মীদের চাপ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আলোচনায় সমঝোতা না হয়, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে ডাক সেবা ব্যাহত হতে পারে, যা শুধু কানাডার অর্থনীতিকেই নয়, সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকেও প্রভাবিত করবে।

বর্তমানে আলোচনার পরবর্তী তারিখ বা সম্ভাব্য সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে উভয় পক্ষের অবস্থান বিবেচনায় মনে হচ্ছে, আপাতত কানাডা পোস্ট ও সিইইউপিডব্লিউর মধ্যে সমাধানের পথ এখনো দীর্ঘ ও অনিশ্চিত।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles