
অন্টারিও প্রদেশে নতুন বাড়ি নির্মাণে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বীকার করেছেন প্রদেশের আবাসনমন্ত্রী রব ফ্ল্যাক। তাঁর এই মন্তব্য প্রদেশের আবাসন খাতে চলমান সংকটের বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধীরগতি অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের ফোর্ড সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
প্রাদেশিক সরকার “বিল্ডিং ফাস্টার ফান্ড” প্রকল্পের আওতায় লন্ডন সিটিকে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে স্থানীয়ভাবে আবাসন উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়। তবে আবাসনমন্ত্রী রব ফ্ল্যাক স্বীকার করেছেন, সরকারী সহায়তা থাকা সত্ত্বেও বাজারে প্রত্যাশিত গতি ফেরানো যায়নি। তাঁর ভাষায়, “সম্ভাব্য নতুন ক্রেতারা আপাতত বাড়ি ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা আবাসন বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখতে পাচ্ছি।” তবে এই শ্লথগতির সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মন্ত্রী।
সম্প্রতি প্রকাশিত আরবিসি (RBC)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার সার্বিক আবাসন সংকটের মূলে রয়েছে অন্টারিও। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং জমির মূল্যবৃদ্ধি নতুন প্রকল্প শুরুতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার স্থিতিশীল রাখলেও উচ্চ হার বজায় থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ কমে গেছে।
ফ্ল্যাকও পরোক্ষভাবে এ বিষয়টি ইঙ্গিত করে বলেছেন, বর্তমান বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ হ্রাস ও ঋণ পাওয়ার জটিলতা পুরো শিল্পকে চাপে ফেলেছে।
কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশনের (সিএমএইচসি) সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অন্টারিওতে বাড়ি নির্মাণের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে, কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশেই একই সময়ে এক অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে শুধু ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ছাড়া, যেখানে হ্রাসের হার ৪ শতাংশ।
এই তথ্য অন্টারিওর আবাসন খাতের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে, যা প্রদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্টারিও বিল্ডার্স’ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন বাড়ি বিক্রির হার হ্রাস পাওয়ায় তারা ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংস্থানে সমস্যায় পড়ছে। অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যদি বিক্রয় এভাবে কমতে থাকে, তাহলে নতুন বাড়ি নির্মাণের সক্ষমতাও দ্রুত হ্রাস পাবে।”
মন্ত্রী ফ্ল্যাক মনে করেন, কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে প্রাণ ফেরানো সম্ভব, তবে এগুলোর অনেকটাই প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি তিনটি বড় দিক তুলে ধরেছেন। যথা – ১) ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বাড়ি ক্রেতাদের জন্য এইচএসটি ছাড়। ২) ব্যাংক অব কানাডার সুদের হার হ্রাস। এবং ৩) বাড়ি নির্মাণের খরচ কমানো ও উপকরণ সরবরাহের স্থিতিশীলতা।
ফ্ল্যাক বলেন, “এসব প্রশ্নের দ্রুত উত্তর প্রয়োজন আমাদের, যাতে আবাসন শিল্প আবার তাদের দিশা খুঁজে পায়।”
অন্টারিওর আবাসন খাতের ধীরগতি এখন আর কেবল নির্মাণ খাতের সমস্যা নয় এটি পুরো প্রদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত কার্যকর নীতি না নেওয়া হয়, তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫ লাখ বাড়ি নির্মাণের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ফোর্ড সরকার নির্ধারণ করেছিল, তা বাস্তবে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্টারিও এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সিদ্ধান্তগুলো দেরি হলে আবাসন সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান থেকে শুরু করে প্রদেশের শ্রমবাজার পর্যন্ত।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

