
দক্ষিণ অন্টারিওতে এ বছরের শীত হবে বৈচিত্র্যময় ও চমকপ্রদ। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমের প্রথমার্ধে তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতের দাপট দেখা গেলেও জানুয়ারির পর ধীরে ধীরে আবহাওয়া নরম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈপরীত্যময় আবহাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে লা নিনা (La Niña) প্রভাব, যা উত্তর আমেরিকার শীতের ধরন নির্ধারণে অন্যতম বড় উপাদান।
আবহাওয়াবিদ নাতাশা রামসাহাই বলেন, “এবারের শীতের প্রথমার্ধ দ্বিতীয়ার্ধ থেকে একেবারে আলাদা হতে যাচ্ছে। লা নিনা বর্তমানে সক্রিয়, কিন্তু আমরা দেখছি এটি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দুর্বল হতে পারে। ফলে ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, লা নিনা সংক্রান্ত বায়ুমণ্ডলীয় নির্দেশনা দক্ষিণ অন্টারিওর তাপমাত্রা ও তুষারপাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তবে কেবল এটিই নয়, সাইবেরিয়ায় তুষারপাতের পরিমাণও এবারের শীতকে প্রভাবিত করতে পারে।
রামসাহাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্রেট লেকস (Great Lakes) অঞ্চলও এবারের শীতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাঁচটি হ্রদই বর্তমানে স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে বেশি উষ্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে যদি পোলার ভর্টেক্স (Polar Vortex) সক্রিয় হয়, তাহলে ঠান্ডা বাতাস এই উষ্ণ পানির ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে ব্যাপক তুষারঝড় সৃষ্টি করতে পারে।
“আমার মনে হয়, দক্ষিণ অন্টারিওর আবহাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রেট লেকের উষ্ণ পানি একটি বড় নিয়ামক হয়ে উঠবে,” বলেন রামসাহাই। “এই অঞ্চলে আমরা বিপুল পরিমাণ তুষারপাত ও কয়েক দফা শক্তিশালী তুষারঝড়ের প্রত্যাশা করছি।”
প্রাথমিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টিতে দক্ষিণ অন্টারিওর বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যেতে পারে, আর সেই সঙ্গে চলবে ঘন ঘন তুষারপাত। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ কমে আসবে, এবং মৌসুম মৃদু ও তুলনামূলক শুষ্ক রূপ নেবে।
আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মৌসুমের শুরুতে যাতায়াত, কৃষিকাজ ও জ্বালানি ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে জানুয়ারির পর তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়া দক্ষিণ অন্টারিওর বাসিন্দাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের শীত হবে দুই মেজাজের একদিকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা ও তুষারঝড়, অন্যদিকে মৌসুমের শেষ দিকে অপেক্ষাকৃত শান্ত ও শুকনো পরিবেশ।

