
অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তাপ ছড়িয়েছে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (SDF) নিয়ে। বিরোধী দলগুলো একযোগে শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনির পদত্যাগ দাবি করেছে। অভিযোগ, ২৫০ কোটি ডলারের এই তহবিল থেকে ক্ষমতাসীন প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টি (PC)–ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুদান পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার অন্টারিও আইনসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিস তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
“এই ২৫০ কোটি ডলারের তহবিলের অর্থ কর্মজীবী মানুষের জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে এর বড় অংশ দেওয়া হয়েছে এমন সব সংগঠন ও ব্যক্তিকে, যাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সরাসরি সম্পর্ক আছে। শ্রমমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে প্রার্থীদের বিশেষ উদ্দেশ্যে বাছাই করা হয়েছে এটা অন্টারিওর শ্রমজীবী মানুষের প্রতি এক ধরনের প্রতারণা।”
তিনি আরও বলেন, এই তহবিল কোনো প্রকৃত শ্রম-উন্নয়ন কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা শাসক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্টারিও লিবারেল পার্টির সংসদীয় নেতা জন ফ্রেজারও সমালোচনার ঝড় তোলেন। তিনি অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, “তহবিল অনুমোদনের গতি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত। অডিটর জেনারেল বলেছেন, এটি কোনো নিরপেক্ষ বা পেশাদার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং স্পষ্টত রাজনৈতিক প্রভাবিত অনুমোদন প্রক্রিয়া। এটা ন্যায্য, স্বচ্ছ, কিংবা জবাবদিহিতামূলক কোনো প্রক্রিয়া নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মন্ত্রী, আমরা এই বিশৃঙ্খলা চলতে দিতে পারি না। সিদ্ধান্তগুলো এত দ্রুত নেওয়া হয়েছে যে এতে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরা সুযোগই পাননি। এখন সময় এসেছে সরকারের গতি একটু কমিয়ে, দায়বদ্ধতার সঙ্গে চলার।”
সমালোচনার জবাবে শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, বিরোধী দলের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, “আমরা এমন অনেক সংগঠনকেও অনুদান দিয়েছি যেগুলোর সঙ্গে বিরোধী দলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।”
মন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি ধীরে চলব না। অন্টারিওর কর্মজীবী মানুষের জন্য আমি সবসময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব, যাতে তারা পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে টিকে থাকতে পারে।”
বিতর্কের আগুনে এবার নাম এসেছে আরও দুই মন্ত্রীরও। এর মধ্যে অন্যতম লং-টার্ম কেয়ারমন্ত্রী নাতালিয়া কুসেনডোভা-বাশতা। সম্প্রতি তিনি নিজেকে মিসিসোগার একটি চার্চের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ঘোষণা করেন যে চার্চটি ২০২৩ সালে প্রায় ৩২ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালে আরও ৯ লাখ ডলার স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে অনুদান পেয়েছিল।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ওই চার্চের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে, কারণ তিনি ২০২১ সালে সেখানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড অন্টারিও সরকারের অন্যতম সিগনেচার কর্মসূচি, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময় কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। সরকার দাবি করে, এই তহবিল শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের মতে, প্রকল্পটি মূলত ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা জোরদার করার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। যোগ্য আবেদনকারীদের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংযোগ থাকা সংগঠনগুলো তহবিল পাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
এই বিতর্কে সরকার এখন চাপের মুখে। বিরোধীরা টানা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে এবং শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ছাড়বে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার এখনো শ্রমমন্ত্রীকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এ লড়াই সহজে শেষ হচ্ছে না।
অন্টারিও রাজনীতিতে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড এখন কেবল একটি আর্থিক ইস্যু নয়, বরং সরকারের জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনাটি অন্টারিও সরকারের একটি বড় সংকেত ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ এবং দলীয় অনুগতদের সুবিধা দেওয়া এখন প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে। বিরোধীরা এটিকে “নৈতিক দুর্নীতি” বলে আখ্যা দিচ্ছে, আর সরকার বলছে, এটি “কর্মসংস্থান উন্নয়নের প্রয়াস।” কিন্তু একথা সত্য এই বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে এর রাজনৈতিক প্রভাব গভীর হতে পারে।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

