4.2 C
Toronto
শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

বাবা দিবসে আমার বাবার কথা

আমার বাবা

বাবা তোমাকে অনেক বেশী মনে পড়ে। নানা কাজের ব্যস্থতায় সব সময় মনে পড়ে বললে ভুল বলা হবে। কিন্তু যখন মন পড়ে তখন বুকের ভেতর একটা কষ্টের ঢেউ তোলপার করে। বির বির করে বলি , বাবা তুমি কেমন আছো? তুমি যেখানে আছো সে জায়গাটা কেমন? তোমার সব বন্ধুদের সাথে, ভাই বোনদের সাথে দেখা হয় তোমার?

আগে স্বপ্নে এসে বাবা আমার কথাগুলোর জবাব দিতেন। বলতেন – ভালো আছি বাতাসে ঘুড়ে বেড়াই, কোন চিন্তা ভাবনা নেই, ভালোই লাগে।

আরো কত প্রশ্ন থাকতো আমার বাবার কাছে । বাবা সব কথার জবাব দিতেন। ।এখন আর বাবা আমার স্বপ্নে আসে না। কেন আসো না বাবা? তুমি কি রাগ করেছো আমার উপর?

বাবা তুমি কিযে একজন সৌখিন মানুষ ছিলে এখন যখন ভাবি অবাক হই। পৃথিবীতে এমন কোন রংয়ের গোলাপ নেই যা দিয়ে তুমি বাগানটিকে সাজাওনি। আরো কত কত ফুল। সে ফুলে সুভাসে বিকেলের সিগ্ধ হাওয়ায় মৌ মৌ করতো সারা বাড়ীটি। সিড়ির দুপাশে লাগানো কামিনী ফুলের গন্ধে সারা মনটা ভরে যেতো। বর্ষার বৃষ্টির সাথে দোলন চাঁপা দোল খেতো। রজনী গন্ধা, হাসনা হেনা, গন্ধরাজ কোন গাছটি না ছিলো আমাদের বাগানে। জুই গাছ তার এক রাশ ফুল নিয়ে ছাদ পর্যন্ত বেয়ে উঠে ফুল ছড়িয়ে দিতো পুরো ছাঁদটিতে।আর সে ফুলের পাশে বসে চলতো বিকেল বেলা আমাদের পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা। আর বাড়ীর পেছনের বাগানে এমন কোন ফল নেই তুমি রোপন করোনি। একজন মালি সারাদিন ধরে বাগানের কাজ করে যেতো।

একজন ভীষন আধুনিক মানুষ ছিলে তুমি বাবা। বাড়ীতে গানের মাষ্টার নাচের মাষ্টার, পড়ার মাষ্টার , এবং আমাদের অপছন্দের মৌলবী সাহেবও আসতেন।( যদিও সেটা ছিলো আম্মার ডিপার্টমেন্ট )। তুমি নিজে আমাদের আবৃত্তি করা শেখাতে। কি যে ভালো আবৃত্তি করতে তুমি সেটা এখনো কানে লেগে আছে। তুমি এতো শিল্পী মনা ছিলে যে চেষ্টা করেছিলে আমাদের শিল্পী বানাতে কিন্তু তোমার অবাধ্য সন্তানরা কেউই কোন বড় শিল্পী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেনি।

বাবা একটা কথা কিন্তু তোমাকে আমার বলতেই হবে । যেটা আগে কখনো বলা হয়নি। আচ্ছা বলোতো বাবা তুমি কেনো আমাদের সকালে ঘুমোতে দিতে না? মার্নিং ওয়াক সেরে ঘরে এসেই আমাদের ঘরের জানালা গুলো খুলে দিতে ঠাসঠাস করে। ফ্যান বন্ধ করে দিতে, মশারী খুলে দিতে, যেন আমরা কিছুতেই ঘুমাতে না পারি। তখন কি মনে হতো জান বাবা? মনে হতো তুমি পৃথিবীর সবচাইতে নিষ্ঠুর বাবা। কিন্তু বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি তুমি ছিলে আমাদের শ্রেষ্ঠ বাবা। এমন বাবা সব সন্তানদের ভাগ্যে জোটে না। তুমি আমাদের তাস খেলা, দাবা খেলা. ব্যাডমিন্টন খেলা ,সাতার কাটা সব কিছু শিখিয়েছো ।

বাবা তুমি যখন চলে গেলে তখন আমার মনে হতো তুমি যেন আমার পাশে হাঁটছো। আমার পাশে তুমি বসে আছো। আমি অনুভব করতাম কেউ যেন একজন আছে আমার পাশে। পিঠে হাত দিয়ে তুমি আমার ঘুম ভাঙ্গাতে। তুমি আমি কত গল্প করতাম স্বপ্নের মাঝে।

কত সুন্দর করে নিজের মনের মতো করে বিশাল বাড়ী বানিয়ে ছিলে। আমরা সব ভাই বোনরাতো সে বাড়ীতেই বেড়ে উঠেছি। তোমার বড় আদরের মেয়ে ছিলাম আমি। আদর করে তুমি আমাকে একটা বিশেষ নামে ডাকতে। সেটা ছিলো শুধু তোমার ডাক। বাবা তুমি কি ওপার থেকে সব কিছু দেখতে পাও ? তবে সব কিছু না দেখতে পাওয়াই ভালো। দেখতে পেলে অনেক কষ্ট পাবে। না না আমাদের বাড়ীর এখনো কিছু হয়নি। সেটা সে রকমই আছে । শুধু নেই সেই ফুলের সুভাস। ফলের বাগানটাও র্নিজীব। তুমি বারান্দাতে যে চেয়ারটাতে আরাম করে বসতে সেটা সেখানেই আছে। ভোগনভ্যালিয়া ছড়িয়ে আছে আগের মতোই বারান্দার গ্রিলে লাল রং নিয়ে। বাড়ীটির প্রতিটি কোনে এখনো তুমি আছো।

বাবা তোমাকে অনেক মনে পড়ে। তোমার কথা মনে হলে আমার মনে হয় আমার পৃথিবীটা থমকে গেছে। আমার চোখ জলে ঝাপসা হয়ে যায়। আর সে ঝাপসা চোখে আমি দেখতে পাই তুমি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছো আমার সামনে।

বাবা তোমার পৃথিবীটা কেমন? তুমি যেখানে আছো সেখানে কি অনেক আপনজনরাও আছে? বড্ড জানতে ইচ্ছে করে সব কিছু। বাবা তুমি কিন্তু আমার স্বপ্নে এসে জাগিয়ে তোলো আমাকে। আমার এ অনুরোধটুকু তুমি রেখো বাবা। ভালো থাকো বাবা। অনেক অনেক ভালো।

বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ,ভালোবাসা । আপনারা যে যেখানে আছেন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সন্তানদের ভালোবাসাতে আপ্লূত থাকুন।

মিল্টন, অন্টারিও, কানাডা

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles