17.2 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০২৪

মধ্যপ্রাচ্য থেকে টরন্টো : এগারো

মধ্যপ্রাচ্য থেকে টরন্টো : এগারো

আমাদের কম্পাউন্ডর পরিবার ছাড়াও বাইরের বাঙ্গালিদের সাথেও আমাদের অনেক বন্ধুত্ব হয়ে গেলো । বেশ ভালই লাগতে শুরু করেছিলো সিঙ্গাপুর। একটা জিনিষ চিন্তা করলে এখনো আত্মতৃপ্তি লাভ করি যে সিঙ্গাপরে মানুষের সেবা করার অনেক সুযোগ পেয়েছি। কতো আত্মীয় স্বজন এসে থেকেছে আমাদের এখানে চিকিৎসার জন্য যাদের সাথে আমার তেমন কনো যোগাযোগই ছিলো না। আমি বিয়ের পর থেকেই দেশের বাইরে যার ফলে কারো সাথে যোগাযোগ রাখতে পারিনি। আমার অনেক বড় লোক নামী দামি অহংকারি আত্মীয়রাও আমার কাছে থেকে চিকিৎসা করিয়েছে হোটেল খরচ বাঁচাবার জন্য ।তাছাড়াও অনেক পরিচিত কাছের লোকেরাও হসপিটালে এসে থেকেছেন, তাদেরকে বাসা থেকে রান্না করে নিয়ে গেছি। দুরের কাছের অনেক আত্মীয়দের সাথে আমার দেখা হয়েছে ওরা আমাদের বাসায় থেকেছে বেড়িয়েছে ।

- Advertisement -

তাদের বেড়াতে নিয়ে যাওয়াটা ও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিলো । সিঙ্গাপুরের “ সানতোসা আইল্যান্ড “ ছিলো একটি দর্শনীয় জায়গা। সিঙ্গাপুর এসে সানতোসা আইল্যান্ড না দেখে গেলে তাদের বেড়ানোটাই সম্পূর্ণ হতো না। ফেরী পার হয়ে যেতে হতো সে আইল্যান্ডে । সুন্দর ভাবে সাজানো গুছানো সানতোসা আইল্যান্ড । নানা রকমের গাছ, ফুলের গাছে সাজানো , নানা রকমের বুটিক সপ , কাপড় চোপর , নানা ধরনের খাবারের দোকান সেখানে শোভা বর্ধন করেছে তার সাথে চলছে নানা ধরণের শো ভ্রমণ কারীদের আকর্ষণ করার জন্য । সিংগাপুরের’ বার্ড পার্ক’ ‘ ক্রোকডাইল পার্ক ‘ এবং নানা বড় বড় শপিং মলে নিয়ে ঘুরেছি আমাদের অথীতিদের নিয়ে । এতে আমরা বিরক্ত বোধ করিনি কখনো বরং আনন্দ পেতাম আমরা আমাদের অথীতিদের আনন্দ দিতে পারছি ।

আমাদের আরেকজন আত্মীয় এসেছিলেন তাদের দশ বছরের মেয়ের চিকিৎসা করাতে। উনারা সরাসরি হাসপাতালে উঠেছিলেন । মেয়েটার পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর তার ব্রেইনে কান্সসার ধরা পরলো । সেটা যে কি দুঃখ জনক ঘটনা ছিলো । কিন্তু এমন জায়গাতে ছিলো যে এটা সাজারি করা সম্ভব ছিলো না। কিন্তু অনেক দিন থেকে চিকিৎসা করাতে হবে যেটা উনাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না এতো টাকা দিয়ে হাসপাতালে মেয়েকে রাখার। তখন আমরা এই পরিবারটিকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের এখানে থেকে উনারা দুই মাস মেয়ের চিকিৎসা করালেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি শুধু সাময়িক আরাম হয়েছিলো মেয়েটার শরীরে ।

মেয়েটার নাম ছিলো তাশিয়া। এই বাচ্চা মেয়েটার চেহেরা এখনো চোখে ভাসে। ডাক্তার মেয়ের বাবা আর আমার স্বামীর কাছে বলেছিলেন তাশিয়া আর পনেরো মাস বাঁচবে । এখন আর কোন চিকিৎসা নেই। ইচ্ছা করলে উনারা দেশে ফিরে যেতে পারেন। দুই মাস আমাদের এখানে থেকে উনারা মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও মেয়ের মাকে কথাটা আমরা জানাইনি। ঠিক পনেরো মাস পরে তাশিয়া মেয়েটি মারা যায় । তাশিয়া অনেক অসুস্থ জেনে আমি দেশে গেছিলাম ওকে দেখতে । আমি যাবো শুনে ওর মাকে দিয়ে আমার জন্য নীল রঙের একটা শাড়ী নীল রঙের কাঁচের চুরি কিনিয়ে রেখেছিলো ।

তাশিয়া যখন আমার হাতে উপহার গুলো তুলে দিয়েছিলো তখন আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমি জানতাম ওর হাতে বেশী সময় নেই। আমাকে বললো তুমি এই শাড়ি আর চুরি পরে একদিন আবার আমাকে দেখতে আসবে তো ।আমি আমার কথা রেখেছিলাম, সে শাড়ি চুরি পরে তাশিয়ার কাছে গিয়েছিলাম।

তাশিয়ার রুগ্ন চেহারাতে উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠেছিলো । ওর হাসি আমার মনটা ভরে গেছিলো । আমি ফিরে এলাম সিঙ্গাপুর । ফিরে আসার দুই সাপ্তাহের মধ্যেই তাশিয়ার চলে যাবার খবর পেয়েছিলাম। তাশিয়ার দেয়া শাড়ি আজো আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি।

আমার অত্যান্ত সুভাগ্য আমি সিঙ্গাপুর থাকাতে আমার আব্বা আম্মা ভাই বোন , কাজিনরা সবাই আমার এখানে এসে বেড়িয়ে গেছেন। তাছাড়া কাছের দুরের অনেক আত্মীয় আমাদের এখানে বেড়িয়ে গেছেন। হোটেল খরচ বাচিয়েছেন শপিং করেছেন।

আমার ভালোই লাগতো প্রতি সাপ্তাহেই দেশের মানুষ আসছে আমাদের বাড়িতে সেটা যে কারণই হোক না কেনো ? আমার বাবা আমার এখান থেকে ফিরে যাবার তিন মাস পর হঠাৎ করে সিবিয়ার হার্ট এটাকে ২০ মিনিটের মাঝে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সে খবর আমার স্কুলেই পেয়েছিলাম। সেদিনই আমরা সবাই দেশে চলে গিয়েছিলাম। আব্বার ৪০ দিন শেষ করে সিঙ্গাপুর ফিরে এসেছিলাম।
ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles