4.2 C
Toronto
শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফল

বেশ কবছর আগে কর্মসূত্রে ভিয়েতনাম সফরে গিয়েছিলাম। সেসময় কৃষি এবং কৃষিসংক্রান্ত কাজের (উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপনন, গবেষণা ইত্যাদি) সাথে জড়িত অনেক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে দেখা/আলোচনা করেছিলাম। এদের মধ্যে পশুপালন/দুগ্ধ খামার; পোলট্রি/মৎস্য/পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, কেঁচোসার, অর্কিড চাষ, এবং ড্রাগন ফল চাষের সাথে জড়িত খামারি/খামার সমিতি/ব্যবসায়ী/গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে দেখা/অভিজ্ঞতা বিনিময় করার সুযোগ হয়েছিলো আমার।

এ’সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিন-মধ্য ভিয়েতনামের বিন থুয়ান (Binh Thuang) প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা ড্রাগন ফল চাষ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মকাণ্ডের সাথে আমার প্রথম বারের মতো পরিচয় ঘটে।

আবহাওয়াগত কারণে বিন থুয়ান প্রদেশেই সব চেয়ে বেশি ড্রাগন ফলের চাষ হয় ভিয়েতনামে। এছাড়া দক্ষিণ ভিয়েতনামের আরও দুটি এলাকায় (লং আন এবং তিএন গিয়াং) প্রচুর ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে।

ভিয়েতনাম ছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, শ্রীলঙ্কা, চীন এবং ইসরায়েল এর পাশাপাশি মধ্য আমেরিকার অনেক দেশে এখন বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশের আবহাওয়াও ড্রাগন ফল চাষের উপযোগী এবং যতদূর জানা যায় আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন এ’ফল সফলভাবে চাষ হচ্ছে।

সূত্র মতে, ভিয়েতনামে উৎপাদিত ড্রাগন ফলের সিংহভাগই (প্রায় ৭০%) চীনে রপ্তানি হয়ে থাকে। এছাড়া দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় (কানাডাসহ) ভিয়েতনামের ড্রাগন ফল রপ্তানি হয়।

পুষ্টিমান সম্পন্ন ড্রাগন ফল খেতে খুবই সুস্বাদু। ড্রাগন ফলে প্রচুর জলীয় অংশ ছাড়া আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-বি, ফসফরাস, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, এবং ফাইবার পাওয়া যায়। এ’ফলের খাবারযোগ্য বীজও অত্যন্ত পুষ্টিমান সম্পন্ন যাতে উচ্চ মাত্রায় polyunsaturated fats, like omega-3 and omega-6 fatty acids আছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ড্রাগন ফলে ক্যালোরির পরিমাণ কম কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর মিনারেলস আছে।

চীনা পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, হাজার হাজার বছর আগে যুদ্ধজয়ী পরাক্রমশালী এক ড্রাগন সর্বপ্রথম ড্রাগন ফল তৈরি করে। কাহিনীতে যাই থাকুক না কেন, ফল গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগন ফল একটি উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন সুস্বাদু ফল। সুতরাং এ’ফলের টেকসই, স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব উৎপাদন এবং বিপননের ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবী হওয়া উচিত। এ’ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন-জনিত বিরূপ প্রভাবের ফলে আগামীতে এ’ফল চাষে নানা রোগবালাই, এবং অনিষ্টকারী পোকা/কীট পতঙ্গের আক্রমণ হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে। সুতরাং, সময় থাকতেই এ’ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles