
কানাডিয়ান পণ্য কেনার আন্দোলন শুরু হওয়ার এক বছর পার হলেও দেশটির ভোক্তাদের মধ্যে এই প্রবণতা এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও বহু কানাডিয়ান সামর্থ্য অনুযায়ী দেশীয় পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ধরে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রয় খাতের একজন বিশ্লেষক।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মন্তব্য করেন। এর পাশাপাশি তিনি একাধিক শাস্তিমূলক শুল্ক ঘোষণাও দেন। এসব সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের পরই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ে এবং কানাডার ভোক্তাদের মধ্যে দেশীয় পণ্য কেনার আন্দোলন নতুন করে জোরদার হয়।
খুচরা বিক্রয় বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রুস উইন্ডার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এক বছর আগে যখন এই বাণিজ্য বিরোধের সূত্রপাত হয়, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষের আবেগ কমে যাবে। কিন্তু আমি যেসব গবেষণা পড়েছি, তার সবকটিই বলছে এক বছর পরও কানাডিয়ানদের অনুভূতি এখনো বেশ শক্তিশালী।”
তিনি জানান, অনেক ভোক্তা ইচ্ছা থাকলেও বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সবসময় কানাডিয়ান পণ্য কেনা তাদের জন্য সহজ হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি, আর অনেকের মজুরি বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে দেশীয় পণ্য কেনার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহককে বাধ্য হয়ে সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।
উইন্ডার আরও বলেন, চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ কানাডার খুচরা বাজারকে কার্যত দুই স্তরের অর্থনীতিতে ভাগ করে দিয়েছে। কোন পণ্য, কোন খুচরা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন সেবা ভালো করছে আর কোনগুলো পিছিয়ে পড়ছে এই পার্থক্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্পষ্ট। স্বচ্ছল ভোক্তারা তুলনামূলক ব্যয়বহুল পণ্যে ভালোভাবে খরচ করতে পারলেও, আয় সীমিত থাকা অনেক মানুষ নো ফ্রিলস বা ডলারামার মতো ডিসকাউন্ট স্টোরে কেনাকাটায় বেশি নির্ভর করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কানাডিয়ান পণ্য কেনার আন্দোলন কেবল সাময়িক আবেগ নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে একটি সচেতন ভোক্তা আচরণে রূপ নিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই আন্দোলনের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর।
সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা যতই কঠিন হোক না কেন, জাতীয় স্বার্থ ও পরিচয়ের প্রশ্নে কানাডিয়ান ভোক্তাদের একটি বড় অংশ এখনো দেশীয় পণ্যের পাশেই থাকার চেষ্টা করছে যা খুচরা বাজার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

