টরন্টোতে ফেন্টানাইলের জায়গা নিচ্ছে অ্যানিমেল ট্র্যাঙ্কুইলাইজার

টরন্টোতে ফেন্টানাইলের জায়গা নিচ্ছে অ্যানিমেল ট্র্যাঙ্কুইলাইজার - the Bengali Times
টরন্টোর অনিয়ন্ত্রিত মাদক সরবরাহ ব্যবস্থায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হারে শনাক্ত হচ্ছে অ্যানিমেল ট্র্যাঙ্কুইলাইজার

টরন্টোর অনিয়ন্ত্রিত মাদক সরবরাহ ব্যবস্থায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হারে শনাক্ত হচ্ছে অ্যানিমেল ট্র্যাঙ্কুইলাইজার। এই ওষুধ মানুষের ব্যবহারের জন্য কোনোভাবেই অনুমোদিত নয় এবং এর সংস্পর্শে এলে মাদকসেবীদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হতে পারে এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

টরন্টো ড্রাগ চেকিং সার্ভিস (টিডিসিএস)-এর নির্বাহী পরিচালক কারেন ম্যাকডোনাল্ড জানান, নগরীর ফেন্টানাইল সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যেই এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে। ফেন্টানাইল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সিন্থেটিক ওপিয়ড, যা সামান্য মাত্রাতেই প্রাণঘাতী হতে পারে।

- Advertisement -

টরন্টোতে বহুল ব্যবহৃত অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা বর্ধক মাদকগুলোর মধ্যে রয়েছে কোকেন, সাইকিডেলিকস, সাইকোসিবিন (ম্যাজিক মাশরুম), এমডিএমএ এবং কেটামিন। টিডিসিএসের তথ্য অনুযায়ী, এসব মাদকের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় এগুলোর সঙ্গে ব্যাপক ওভারডোজ বা মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম।

২০১৭ সাল থেকে টরন্টোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক মাদক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে ওপিয়ডজাত দ্রব্য, বিশেষ করে ফেন্টানাইল। এই সরবরাহ ব্যবস্থাটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই মাদকসেবীরা মনে করছেন তারা কেবল ফেন্টানাইল গ্রহণ করছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা নিচ্ছেন বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের একটি ‘ককটেল’, যা দ্রুত ওভারডোজ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

টরন্টো ওভারডোজ ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওপিয়ড বিষক্রিয়ায় টরন্টোতে চার হাজারের কিছু কম মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা নগরীর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদক পরীক্ষায় টরন্টোর অনিয়ন্ত্রিত মাদক সরবরাহে সবচেয়ে বেশি যে বিষাক্ত উপাদানটি শনাক্ত হয়েছে, তা হলো সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে বিষণ্নতার জন্য দায়ী বেনজোডিয়াজেপিন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘বেনজো-ডোপ’-এর প্রভাব ওপিয়ড প্রতিষেধক নালোক্সোন দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। যদিও বেনজোডিয়াজেপিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, তবুও অনিয়ন্ত্রিত মাদক হিসেবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে টিডিসিএসের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় বেনজোডিয়াজেপিনের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে কমে এসেছে।

২০২৪ সালের সর্বশেষ ফলাফলে টিডিসিএস জানিয়েছে, ফেন্টানাইলের নমুনায় ‘মেডেটোমিডাইন’ নামে পরিচিত একটি অ্যানিমেল ট্র্যাঙ্কুইলাইজারের উপস্থিতি বাড়ছে। এই ওষুধ মূলত পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং মানুষের শরীরে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে টরন্টোর মাদকজনিত মৃত্যুহার আরও বাড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত মাদক সরবরাহে নতুন নতুন বিষাক্ত উপাদান যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। সচেতনতা, নিয়মিত মাদক পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার বিস্তৃতি ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles