
কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ফেডারেল পুলিশ বাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, তারা এক ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং প্ল্যাটফরম থেকে ৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করেছে। অর্থপাচারে সহায়তার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরসিএমপির ইস্টার্ন রিজিয়ন ফেডারেল পুলিশিং বিভাগ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, জব্দ করা প্ল্যাটফরমটির নাম ‘ট্রেডঅগ্রি (TradeAgri)’, যা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করছিল। তারা বলেছে, কানাডিয়ান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফরমকে ভেঙে দেওয়া হলো।
তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে, যখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল (Europol) আরসিএমপির অর্থপাচার দমন শাখাকে ট্রেডঅগ্রি প্ল্যাটফরম সম্পর্কে সতর্ক করে। ইউরোপোলের তথ্যে উল্লেখ ছিল, প্ল্যাটফরমটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি অর্থপাচারের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ ট্রেডঅগ্রির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। আরসিএমপির কর্মকর্তারা তদন্তের সময় দেখতে পান, প্ল্যাটফরমটি ‘মানি সার্ভিস ব্যবসা’ (Money Service Business) হিসেবে ফিনটেকে নিবন্ধিত নয়, যা কানাডার আর্থিক নীতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। এছাড়া, তারা গ্রাহকদের পরিচয় যাচাই (KYC) প্রক্রিয়াও অনুসরণ করছিল না।
আরসিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ট্রেডঅগ্রি প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া তহবিলের একটি বড় অংশই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সংগৃহীত।
এই ধরনের প্ল্যাটফরমের প্রতি অপরাধীদের আগ্রহের মূল কারণ হচ্ছে, এখানে অর্থের উৎস গোপন রাখা সম্ভব। ব্যবহারকারীরা সহজেই অজ্ঞাত পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করতে পারেন, যা অর্থপাচারকারী সংগঠনগুলোর জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্ল্যাটফরমটির সার্ভার ও লেনদেনের তথ্যসূত্র বিশ্লেষণের কাজ চলছে। সব তথ্য যাচাই ও পর্যালোচনার পর অর্থপাচার এবং অপরাধমূলক আয়ের বৈধকরণে সহযোগিতা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ট্রেডঅগ্রির কাছে একাধিকবার বার্তা পাঠানো হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানির ওয়েবসাইটও বর্তমানে অফলাইন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডার আর্থিক খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। এই ঘটনার মাধ্যমে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধমূলক অর্থ প্রবাহ রোধে তারা ক্রিপ্টো মার্কেটেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরোপোল ও আরসিএমপির এই যৌথ অভিযান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো অপরাধচক্র দমনে একটি মডেল কেস হিসেবে কাজ করবে।

