কানাডার আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতা, তবে শুল্কের হুমকিতে নতুন অনিশ্চয়তা

কানাডার আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতা, তবে শুল্কের হুমকিতে নতুন অনিশ্চয়তা - the Bengali Times
কানাডার আবাসন বাজারে দীর্ঘ অস্থিরতার পর এবার এক ধরনের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে

কানাডার আবাসন বাজারে দীর্ঘ অস্থিরতার পর এবার এক ধরনের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশন (সিআরইএ)-এর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে জুলাই মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও এর আগের মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, তবুও সামগ্রিক প্রবণতা ইতিবাচক। তবে বিক্রির এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধি বাজারে সতর্কতার আবহ তৈরি করেছে।

সিআরইএর তথ্য বলছে, বর্তমানে কানাডায় গড় বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৪৩ কানাডিয়ান ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ দাম কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও আগের মাসের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দাম কিছুটা বেড়ে থাকলেও তা এখনো বাজারে প্রকৃত পুনরুদ্ধারের চিত্র তুলে ধরছে না। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, উচ্চ সুদের হার এবং স্থায়ী মূল্যস্ফীতি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, ফলে চাহিদা তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে গেছে।

- Advertisement -

নার্ডওয়ালেট কানাডার মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ ক্লে জার্ভিস বলেছেন, বর্তমানে যে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তা মূলত “মনস্তাত্ত্বিক প্রতিফলন”। তাঁর মতে, ক্রেতারা হয়তো ভেবেছেন বাজারের বড় ধস পেছনে ফেলে আসা গেছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল। তিনি মন্তব্য করেন, “উচ্চ দাম, ব্যয়বহুল মর্টগেজ এবং জীবনের ক্রমবর্ধমান খরচ সব মিলিয়ে বাজারে প্রকৃত পরিবর্তন আনার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। কানাডিয়ানরা শুল্ক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছে।”

অন্যদিকে, সিআরইএর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ শন ক্যাথার্ট বলেছেন, “উপাত্তগুলো দেখাচ্ছে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত পুনরুদ্ধারে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বছরের শুরুর দিকটা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল, যার প্রভাব এখনও কাটেনি।”

জাতীয়ভাবে বাজার তুলনামূলক শান্ত থাকলেও গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় (জিটিএ) বাড়ি বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই অঞ্চলে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার সবচেয়ে সক্রিয় আবাসন বাজার জিটিএ-এর উন্নতি ইতিবাচক বার্তা দিলেও এটি জাতীয় স্তরে স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

এদিকে আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতার এ আভাসের মাঝেই নতুন করে দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রাজনীতির চাপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এটি খাতভিত্তিক শুল্ক থেকে আলাদা একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে আয় কমে যাবে, যা সরাসরি মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ সুদের হারের কারণে আর্থিক চাপে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি নতুন করে সংকট তৈরি করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কানাডার আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে যে স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, তা আশাব্যঞ্জক হলেও ভঙ্গুর। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আগামী মাসগুলোতে বাজারকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু বাজারের ভেতরের শক্তি নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

এক কথায়, কানাডার আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতার সূচনা হলেও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ এখনও কাটেনি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles