
কানাডার কনফেডারেশনের সঙ্গে আলবার্টার সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবরের গণভোট সামনে রেখে প্রদেশজুড়ে প্রচারণা জোরদার হয়েছে। ভোটের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকায় পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আলবার্টার বিভিন্ন নেবারহুডে এখন চোখে পড়ছে লাল-সাদা লন সাইন। এসব সাইনে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি আলবার্টার স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালানো গোষ্ঠীগুলোর সাইনও দেখা যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের প্রচারণার ধরন ও দৃশ্যমানতায় বেশ পার্থক্য রয়েছে।
বিচ্ছিন্নতাপন্থী ‘লেট আলবার্টা ডিসাইড’ শিবিরের সহ-নেতা কথ উইলসনের মতে, এর পেছনে একটি বাস্তব কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে অনেক মানুষ থাকলেও তারা নিজেদের বাড়ির সামনে লন সাইন লাগাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। উইলসনের ভাষ্য, তাদের প্রচারণার বড় অংশই তাই ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের সাইন স্থাপন করা হচ্ছে, যার কিছু কিছু প্রায় এক মিটার পর্যন্ত উঁচু।
তবে গণভোট ঘিরে শুধু প্রচারণাই নয়, অনলাইন পরিসরেও উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক অনলাইন কমেন্টেটর এবং ‘পাথওয়ে টু ইন্ডিপেন্ডেন্স’ নামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সংগঠক কোরি মরগ্যান জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষুব্ধ ই-মেইল পাওয়া তার জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা আগে কখনো দেখেননি।
মরগ্যানের ভাষায়, পরিস্থিতি এখন ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার সংগঠনের প্রতি সমর্থনের আরেকটি দিকও উঠে এসেছে অনুদানের ঘটনায়। মরগ্যান জানান, এক সমর্থক তাদের সংগঠনকে ফোন করে ১ হাজার ডলার অনুদান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে মরগ্যান জানতে চান, তিনি কি বাড়ির সামনে একটি লন সাইন লাগাতে পারবেন।
উত্তরে ওই সমর্থক সরাসরি না জানিয়ে বলেন, তিনি তা করতে পারবেন না। এই ঘটনাই আলবার্টার আসন্ন গণভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরছে স্বাধীনতার প্রশ্নে মানুষের আগ্রহ থাকলেও প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই এখনো দ্বিধায়। ফলে ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের লড়াই নয়; একই সঙ্গে জনমত প্রকাশের সাহস ও সামাজিক চাপের পরীক্ষাতেও পরিণত হচ্ছে।
১৯ অক্টোবরের ভোটেই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে, আলবার্টার মানুষ কানাডার সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে থাকবেন, নাকি প্রদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্বাধীন পথের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে চাইবেন।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

