
কানাডার অটোমোবাইল বাজারে আবারও বড় ধরনের সেফটি রিকলের ঘোষণা দিলো মার্কিন অটোমোবাইল নির্মাতা জায়ান্ট ফোর্ড মোটর কোম্পানি। দেশটির পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডা জানিয়েছে, ফুয়েল পাম্পের গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কানাডাজুড়ে এক লাখ সাত হাজার পাঁচ শত চৌত্রিশটি (১০৭,৫৩৪) গাড়ি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফোর্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ত্রুটি শুধু চালক ও যাত্রীদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং কোম্পানির দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
ফোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু মডেলের লো-প্রেশার ফুয়েল পাম্পে ত্রুটি রয়েছে। এই যান্ত্রিক সমস্যা গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ ফুয়েল পাম্প বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, গাড়ি স্টার্ট না-ও নিতে পারে, ড্যাশবোর্ডে ‘চেক ইঞ্জিন’ সতর্ক সংকেত ভেসে উঠতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ফুয়েল পাম্প ব্যর্থ হলে হঠাৎ শক্তি হারাতে পারে ইঞ্জিন। এতে গাড়ির গতি ও নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে ফোর্ডের একাধিক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত মডেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফোর্ড ব্রঙ্কো (২০২১, ২০২২), ফোর্ড এক্সপিডিশন (২০২২), ফোর্ড এফ-১৫০ (২০২১, ২০২২), ফোর্ড এফ-২৫০/৩৫০/৪৫০/৫৫০ সুপার ডিউটি (২০২১–২০২৩), ফোর্ড মুস্টাঙ্গ (২০২১, ২০২২), ফোর্ড পুলিশ ইন্টারসেপ্টর ইউটিলিটি (২০২১, ২০২২), লিঙ্কন এভিয়েটর (২০২১–২০২৩) এগুলো শুধু ব্যক্তিগত গাড়িই নয়, বরং উত্তর আমেরিকার সড়কে পুলিশ ও বাণিজ্যিক পরিবহনে ব্যবহৃত বহুল জনপ্রিয় মডেলও এই রিকলের আওতায় আসছে।
ফোর্ড জানিয়েছে, গাড়ির মালিকদের মেইলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। তবে এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি কবে থেকে মেরামত কার্যক্রম শুরু হবে। কোম্পানির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রত্যাহার-সংক্রান্ত সকল সার্ভিস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। মেরামতের সময় ও সঠিক প্রক্রিয়া নিয়ে মালিকদের শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।
এই ত্রুটি উত্তর আমেরিকা জুড়ে ব্যাপক আকারে ধরা পড়েছে। কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও সাড়ে আট লাখের বেশি গাড়ি প্রত্যাহার করছে ফোর্ড। অর্থাৎ, দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় দশ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে এটি ফোর্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সেফটি রিকল হয়ে উঠছে।
অটোমোবাইল বিশ্লেষকদের মতে, ফুয়েল পাম্পের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি ধরা পড়া ফোর্ডের ভাবমূর্তির জন্য বড় আঘাত। একদিকে সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকরা ফোর্ড গাড়ির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে সন্দিহান হয়ে পড়ছেন।
এক বিশ্লেষক বলেন, “ফোর্ডের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান করা এবং গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিরাপত্তা নিয়ে ন্যূনতম শঙ্কাও ব্র্যান্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।”
অটোমোবাইল শিল্পে গাড়ি প্রত্যাহার নতুন কিছু নয়। তবে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি রিকল করা ফোর্ডের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। আগামী দিনে তারা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে কোম্পানির বাজার ও গ্রাহক আস্থার ভবিষ্যৎ।

