
কানাডায় নতুন অভিবাসীদের শ্রমবাজারে স্থিতিশীল হতে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে ভাষাগত দুর্বলতা। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় সীমিত দক্ষতার কারণে অনেক অভিবাসী যোগ্য চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছেন না এবং কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন।
জরিপ অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীদের প্রায় ৪২ শতাংশ মনে করেন ভাষাগত দুর্বলতার কারণে তারা উপযুক্ত চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেননি। প্রায় ৩৫ শতাংশ জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকারে ভাষার সীমাবদ্ধতা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রশাসনিক সেবা এবং আইন–এ ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে ভাষার দক্ষতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর প্রভাব স্পষ্ট। পরিসংখ্যান বলছে, কানাডায় আগমনের প্রথম পাঁচ বছরে নতুন অভিবাসীদের গড় বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যেখানে কানাডায় জন্ম নেওয়া কর্মীদের আয় প্রায় ৫৬ হাজার ডলার। ভালো ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন অভিবাসীদের আয় দুর্বলদের তুলনায় গড়ে ৪৮ শতাংশ বেশি।
সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতেও বড় বাধা তৈরি করছে ভাষা সমস্যা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৮ শতাংশ অভিবাসী জানিয়েছেন, ভাষার কারণে তারা সামাজিক অনুষ্ঠান, স্কুল মিটিং কিংবা স্থানীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। এর ফলে একদিকে একাকিত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে কানাডীয় সমাজে একীভূত হতে সময় লাগছে।
ভাষা দুর্বলতা মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার ও প্রাদেশিক পর্যায়ে বর্তমানে ১,২০০টির বেশি ভাষা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এসব প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নতুন অভিবাসী। তবে চাহিদা এখনও পূরণ হচ্ছে না। অনেকের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ দীর্ঘ হলেও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সুযোগ কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। তাদের মতে, নতুন অভিবাসীদের দ্রুত সফল হতে ভাষা শিক্ষায় আরও বিনিয়োগ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

