
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক ও খাদ্য উৎসব “টেস্ট অব বাংলাদেশ” এবার আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টরন্টোর ড্যানফোর্থে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর দু’দিনব্যাপী এই উৎসবে ভিড় জমাবেন প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেশি বলে আশা করা হচ্ছে।
ড্যানফোর্থ এভিনিউয়ের প্রায় ১.৫ কিলোমিটারজুড়ে বসবে এ উৎসব। থাকছে ১৮০টির বেশি স্টল যার মধ্যে ১১০টি রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকান, ৩০টি পোশাক ও হস্তশিল্পের স্টল এবং ৪০টির বেশি সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। খাবারের মেনুতে থাকবে পান্তাভাত-ইলিশ, ফুচকা, চটপটি, মুড়ি-মাখা, বিরিয়ানি, কাবাব ও দেশীয় মিষ্টান্নসহ নানা পদ। পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় ৩৫ টন খাবার বিক্রির পূর্বাভাস দিয়েছেন আয়োজকেরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে থাকছে দুটি প্রধান মঞ্চ। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীরাও গান, নাচ ও লোকসংগীত পরিবেশন করবেন। প্রায় ৪০০ জন শিল্পী অংশ নেবেন এসব পরিবেশনায়। শিশুদের জন্য থাকছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গল্প বলার আসর ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা।

উৎসবের নিরাপত্তায় প্রায় ১৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে, সঙ্গে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি। টরন্টো সিটির হিসেবে, এ আয়োজন স্থানীয় অর্থনীতিতে আনুমানিক ১২ মিলিয়ন ডলার প্রবাহ ঘটাবে যার মধ্যে পরিবহন, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের ভাষায়, “টেস্ট অব বাংলাদেশ কেবল খাবারের উৎসব নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরার এক বড় প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
আগামী ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ড্যানফোর্থে অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবাসী বাংলাদেশি ও মূলধারার কানাডিয়ানদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খাবার, সংগীত ও আনন্দের মহামিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে “টেস্ট অব বাংলাদেশ ২০২৫”।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

