
টরন্টোর লিটল পর্তুগাল এলাকায় একটি আবাসিক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে সিটি হলের সঙ্গে আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তার অভিযোগ, নতুন নির্মিত ভবনের একটি অংশ তার ব্যক্তিগত জমির ওপর চলে এসেছে। বিষয়টি একাধিকবার সিটি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শুধু নিজের সম্পত্তির অধিকার নয়, টরন্টোর নির্মাণ অনুমোদন ও তদারকি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বাড়ির মালিক ব্রায়ান কিয়েলার টরন্টোর ঐতিহাসিক লিটল পর্তুগাল এলাকায় বসবাস করেন। তিনি জানান, তার বাড়িটি আটটি সংযুক্ত বাড়ির একটি সারির অংশ, যেগুলোর বয়স প্রায় দেড় শতাব্দী। এসব বাড়ির কাঠামোগত কিছু অংশ, বিশেষ করে চিলেকোঠা, পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই পাশের বাড়িতে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ পুরো সারির বাড়িগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কিয়েলারের অভিযোগ, পাশের প্লটে নতুন ভবন নির্মাণের সময় যে দেওয়াল তৈরি করা হয়েছে, তা তার সম্পত্তির সীমানা অতিক্রম করে কয়েক ইঞ্চি তার জমির ভেতরে চলে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি ভূমি জরিপ করান। সেই জরিপে স্পষ্টভাবে সীমারেখা লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নয়। কারণ তার মতে, প্রতিবেশী বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নির্মাণের অনুমতি নিয়েছেন এবং ঠিকাদারও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ করেছেন। মূল সমস্যা তিনি দেখছেন টরন্টো সিটির নির্মাণ অনুমোদন ও তদারকি ব্যবস্থায়। কিয়েলার বলেন, তিনি প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছেন যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই কোথাও গুরুতর ত্রুটি থেকে গেছে। তার ভাষায়, “এটি প্রতিবেশীর ভুল নয়। সমস্যাটি টরন্টো ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার।”
অভিযোগ জানানোর পর সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিক পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিয়েলারের দাবি, অন্তত পাঁচজন পরিদর্শক এসে নির্মাণকাজ পরীক্ষা করেছেন এবং সবাই সীমারেখা সংক্রান্ত সমস্যাটি দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু এরপরও কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি কী কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সে সম্পর্কেও তাকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সিটি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে সন্দিহান হয়ে কিয়েলার পরে একজন স্বাধীন জরিপকারী নিয়োগ দেন। তিনি বলেন, প্রথমে তার নিজেরই সন্দেহ হয়েছিল হয়তো তিনি ভুল বুঝছেন। কিন্তু স্বাধীন জরিপেও একই ফল আসে। এরপর তিনি সেই জরিপ প্রতিবেদন সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে আবারও দাবি করেন যে নতুন ভবনের একটি অংশ তার জমির ওপর নির্মিত হয়েছে।
তবে কিয়েলারের দাবি, এরপর সিটির আইন বিভাগ থেকে তাকে জানানো হয় যে জরিপকারী কোনো নির্মাণ পরিদর্শক নন। যেহেতু নির্মাণের অনুমোদন ও পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তাই এ বিষয়ে সিটির আর কিছু করার সুযোগ নেই।
এই ঘটনার পর টরন্টোর নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্মাণ যদি বাস্তবে সম্পত্তির সীমারেখা লঙ্ঘন করে থাকে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারের প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতে একই ধরনের বিরোধ এড়াতে নির্মাণ অনুমোদন, ভূমি জরিপ এবং পরিদর্শন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তারও ইঙ্গিত দেয়।
ব্রায়ান কিয়েলারের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। তবে তার দীর্ঘদিনের এই লড়াই টরন্টো সিটির নির্মাণ তদারকি ব্যবস্থা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সম্পত্তির মালিকদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

