
গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ) থেকে মানুষের সরে যাওয়ার প্রবণতা গত বছর আরও তীব্র হয়েছে। নতুন উপাত্তে দেখা গেছে, মাত্র এক বছরে এই অঞ্চল ছেড়ে কানাডার অন্যান্য এলাকায় চলে গেছে ৩৫ হাজারের বেশি পরিবার। প্রতিবেদকের হাতে আসা এনভায়রোনিক্স অ্যানালাইটিকসের সর্বশেষ বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এনভায়রোনিক্সের প্রস্তুতকৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত জিটিএর প্রায় আড়াই লাখ পরিবার ঠিকানা বদল করেছে। তবে তাদের বড় অংশই জিটিএর ভেতরেই অন্য কোনো নেবারহুডে স্থানান্তরিত হয়েছে।
উপাত্তে দেখা যায়, মোট ৬৮ হাজার ১৭৩টি পরিবার এই সময়ে জিটিএর বাইরে অন্য অঞ্চলে পাড়ি জমিয়েছে। এর মধ্যে ৫১.৫ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ১৪০টি পরিবার পুরোপুরি জিটিএ ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে, ৪৮.৫ শতাংশ বা ৩৩ হাজার ৩৩টি পরিবার একই শুমারি অঞ্চলের মধ্যেই অন্য এলাকায় গেছে।
জিটিএ ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে সিমকো কাউন্টি ছিল সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। উপাত্ত অনুযায়ী ১০.৪% বা ৩,৬৫১ পরিবার সিমকো কাউন্টিতে গেছে, ৩.২% হ্যামিল্টনে, ৩.১% ক্যালগেরিতে, ২.৯% ওয়াটারলুতে, ২% গ্রেটার ভ্যানকুভারে এবং ১.৯% নায়াগ্রা অঞ্চলে।
জিটিএ থেকে কয়েক ঘণ্টা দূরের গ্রামীণ এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার বাসস্থান বদল করেছে। উপাত্তে দেখা যায় ১,১৭৪টি পরিবার অন্টারিওর মিডলসেক্স কাউন্টিতে গেছে, ১,১০১টি পরিবার ওয়েলিংটন কাউন্টি বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিমোট কাজের সুযোগ, শহুরে ব্যয়ের চাপ ও সাশ্রয়ী আবাসনের খোঁজে অনেকেই গ্রামীণ অঞ্চলকে নতুনভাবে বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিটিএতে আবাসনমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভাড়া–বাড়ির স্বল্পতা, যানজট, এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় পরিবারগুলোকে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে সিমকো, হ্যামিল্টন ও ক্যালগেরির মতো এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে।
উপাত্ত বলছে, জিটিএ থেকে পরিবারগুলোর স্থানান্তর এখন আর শুধুই অভ্যন্তরীণ নড়াচড়া নয়, বরং অঞ্চল ত্যাগের প্রবণতাও বাড়ছে। আগামী বছরে আবাসনচাপ ও ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

