
অন্টারিওর ফোর্ড সরকার এক অমনিবাস বিলের (Omnibus Bill) মাধ্যমে প্রদেশের একাধিক আইন ও নীতিমালায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই বিলের নাম “Fighting Delays, Building Faster Act”, যেখানে একসঙ্গে ৪০টিরও বেশি আইন ও বিধিমালায় সংশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের আওতায় এসেছে গ্রিন রুফ (Green Roof) থেকে শুরু করে ভাড়াটিয়া অধিকার, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া এবং বিদেশি নাগরিকদের ড্রাইভার’s লাইসেন্সের যোগ্যতা পর্যন্ত নানা বিষয়।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে Residential Tenancies Act (RTA)-এ। বিদ্যমান আইনে বলা আছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ভাড়াটিয়া ভাড়া চুক্তি ও RTA-এর নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার ভাড়াবাড়িতে থাকার অধিকার রাখেন। বাড়ির মালিক কোনো বৈধ আইনি কারণ ছাড়া ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারেন না।
এছাড়া, নির্ধারিত মেয়াদের ভাড়া চুক্তি শেষ হলেও যদি নতুন চুক্তি না হয়, তাহলে ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসভিত্তিক হিসেবে চলতে থাকে এই নিয়মটি বহু বছর ধরে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা দিয়ে আসছে।
কিন্তু ফোর্ড সরকার এখন বলছে, এই ব্যবস্থাটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। তারা চায়, ভাড়া মেয়াদ শেষে বাড়ির মালিকদের যেন তাদের সম্পত্তির ওপর “বেশি নিয়ন্ত্রণ” থাকে। সরকার বলছে, ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা ব্যবসায়িক কৌশল অনুযায়ী বাড়ির মালিকরা যেন তাদের ভাড়াব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে পারেন, সেই সুযোগ দিতে তারা পরামর্শ নিচ্ছে।
সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ মেয়াদ শেষে বাড়ির মালিকরা সহজেই নতুন চুক্তির শর্ত বদলে দিতে পারবেন এমনকি ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারেন।
বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকের মধ্যে বিরোধের শুনানিতে ভাড়াটিয়া যদি কোনো নতুন বিষয় উত্থাপন করতে চান, তাহলে আগে থেকেই সেই বিষয়ে নোটিশ দিতে হবে। অর্থাৎ, শুনানির দিনে নতুন কোনো অভিযোগ বা সমস্যা উত্থাপন করা যাবে না।
সরকারের যুক্তি, এতে করে শুনানির বিলম্ব বা মূলতবি হওয়া (adjournment) কমে আসবে, কারণ পক্ষগুলো আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবে। তবে ভাড়াটিয়া অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপে ভাড়াটিয়ারা তাদের সঠিক দাবি বা জরুরি অভিযোগ শুনানির সময় তুলে ধরার সুযোগ হারাবেন, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে সীমিত করতে পারে।
বিলের আরেকটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশি নাগরিকদের ড্রাইভার’s লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমানে অন্টারিওতে বিদেশিদের পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও প্রশিক্ষণের প্রমাণ দিতে হয়।
সরকার বলছে, এই প্রক্রিয়াটি “জটিল ও সময়সাপেক্ষ”, তাই সেটি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে দক্ষ চালকরা দ্রুত লাইসেন্স পেতে পারেন।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা, যদি এই প্রক্রিয়া অতিরিক্ত সহজ করা হয়, তাহলে সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ফোর্ড সরকারের এই অমনিবাস বিলে শহর পরিকল্পনা, পরিবেশ, এবং নির্মাণসংক্রান্ত আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন রুফ (সবুজ ছাদ) সংক্রান্ত নীতিমালায় সংশোধন, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ভবন ও আবাসিক প্রকল্পের পরিবেশবান্ধব কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সমালোচকরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব অমনিবাস বিলের মাধ্যমে আনা হলে, প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা জনমত ও সংসদীয় আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। তারা মনে করছেন, সরকার মূলত বাড়ির মালিক ও ডেভেলপারদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি জোর দিচ্ছে, অথচ সাধারণ ভাড়াটিয়া ও মধ্যবিত্তের সুরক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফোর্ড সরকার দাবি করছে, এই বিলের উদ্দেশ্য হলো “অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব দূর করে আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা” যাতে অন্টারিওর বাড়তি জনসংখ্যার জন্য দ্রুত বাসস্থান তৈরি করা যায়।
‘ফাইটিং ডিলেইজ, বিল্ডিং ফাস্টার অ্যাক্ট’ নিয়ে অন্টারিওতে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। একদিকে সরকার বলছে, এই পরিবর্তন প্রদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে, অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন, এটি ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে।
বিলটি এখন আইনসভায় আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে এবং দেখা যাক, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো কতটা রূপ পায় বাস্তবে।

