9.8 C
Toronto
রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে বাঙালিদের অংশগ্রহণ বাড়ছে

এই নির্বাচনে দুই নারীসহ পাঁচ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন

কানাডার ৪৪তম ফেডারেল নির্বাচনে দুই নারীসহ পাঁচ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে বাঙালিদের এই অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচিক দিক। কানাডার প্রধান তিন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন- লিবারেল থেকে একজন, কনজার্ভেটিভ পার্টি থেকে একজন এবং এনডিপি থেকে তিনজন। তারা হচ্ছেন- অন্টারিও প্রদেশের ওশোয়া আসনে সরকারি দল লিবারেল থেকে আফরোজা হোসেন, টরন্টোস্থ স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্ট আসনে কনজার্ভেটিভ পার্টি থেকে মহসিন ভুঁইয়া, এনডিপি থেকে স্কারবোরো সেন্টার আসনে ফাইজ কামাল, আলবাট্রার এনডিপি থেকে খালিস আহমেদ তমাল এবং ক্যালগরি থেকে এনডিপির গুলশান আক্তার।

এদের মধ্যে তিন জন গত ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন খালিশ, আফরোজা এবং ফাইজ। এবার তাদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন- মহসিন আর গুলশান।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে আফরোজা ২৫.৪ ভাগ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। উক্ত আসনে কনজারভেটিভ পার্টির ক্লিন কেরি ৩৮.৯ ভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ক্যালগেরির সিগনাল হিল আসন থেকে খালিশ কনজাভেটিভ পার্টির রন লাইপার্টের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

এদিকে গুলশান আক্তার ২০১৯’এর স্থানীয় প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। আর ইতোপূর্বে টরন্টো সিটি কাউন্সিলের কমিশনার পদে লড়াই করে মহসিন ভূইয়া তৃতীয় হন।

ঢাকার নবাবগঞ্জের সন্তান মহসিন ভূইয়া একজন ব্যাবসায়ী। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন- সাবেক পুলিশ প্রধান এবং সরকারি দলের আইন শৃংখলা, নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রি বিল ব্লেয়ার। মহসিন তাঁর নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমি আমার আসনের সাত-আট হাজার বাংলাদেশির ভোট আশা করি। আমি মনে করি- এটা আমার ভোটব্যাংক!

মাগুরার সন্তান ভূতত্ত্ববিদ খালিস আহমেদ। আলবাট্রা থেকে তিনি জানান, ২০১৫ ক্যালগেরি সিগনাল হিল থেকে সাবেক প্রধান মন্ত্রি স্টিফেন হারপারের আসনের উপ নির্বাচনে তিনি প্রথম অংশ নেন। তাতে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে অভিষিক্ত হয়ে সকলের দৃষ্টি কাড়েন। পরে ২০১৯ সালে সিগনাল হিল আসনে এবং এবার নোস হিল আসনে লড়ছেন। বার বার আসন পরিবর্তন সম্পর্কে বলেন, এটা দলের সিদ্ধান্ত।

দিনাজপুরের মেয়ে ডাক্তার গুলশান আক্তার। ক্যালগেরি থেকে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমার মনোনয়ন পেতে তেরো মাস সময় লেগেছে। অথচ আমি আগেও প্রভেন্সিয়াল এম এম পি পদে ইলেকশন করেছি। এবার এন ডি পি খুব যাছাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিচ্ছে। আমার আসন ক্যালগরি কনফেডারেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কনজারভেটিভের ঘাঁটি। আমি সেই ঘাঁটি ভেঙ্গে বিজয়ের আশা করি।

বিক্রমপুরের মেয়ে আফরোজা এপিলেপ্সি টরন্টোর ম্যানেজার। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা থেকে আমাদের জানান, আমি এবারও লিবারেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। আমিই একমাত্র এবং প্রথম বাংলাদেশি, যিনি বিগত ২০১৯ সালের ফেডারেল নির্বাচনে সরকারি দল লিবারেল পার্টির নমিনেশন পেয়েছিলাম। গত দুই বছরে আমি অনেক বেশি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছি। এলাকার জনগণের সাথে কোভিডসহ সামাজিক কাজে নানাভাবে এখনো জড়িত।

স্কারবোরো সেন্টার আসনে ফাইজ কামালের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর নির্বাচনী ওয়েব সাইডে জানা যায় এবং তিনি ঘোষণা দিয়েছেন- নতুন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে আমি গর্বিত। কানাডিয়ান মূল্যবোধের পক্ষে। আমরা অন্যায়, অসমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চাই, এবং প্রগতিশীল পদক্ষেপগুলি দেখতে চাই এবং পুনর্মিলন ঘটাতে চাই। আমরা কানাডিয়ান হিসেবে গর্ববোধ করতে চাই।

অপর দিকে ওন্টারি প্রদেশের প্রাদেশিক নির্বাচনে রাজধানী অটোয়ার পার্শ্ববর্তী নেপান আসন থেকে লিবারেল পার্টি থেকে শাহ বাহাউদ্দিন মনোনয়ন পেয়েও এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ গত ১৪ মার্চ প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ডলি বেগম অন্টারিও পার্লামেন্টে একমাত্র বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত এনডিপি’র সাংসদ। ডলির এই বিজয়-অর্জন ছিলো কানাডায় বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়ার বিজয়!

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles