9.8 C
Toronto
সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

স্কারবোরোর মজসিদে তান্ডবের তদন্তে নেমেছে টরন্টো পুলিশ

বাইতুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার

২০১৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার স্কারবোরোর বায়তুল জান্নাহ মসজিদে ভাংচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একবার কয়েক হাজার ডলারসহ এক ডজনের বেশি দানবাক্স চুরি হয়ে যায়। গত রোববার এ মসজিদে আবারও তান্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। এবার মসজিদের কয়েকটি নামাজের কক্ষ তছনছ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কোরআন মেঝেতে ফেলে দেয় দৃষ্কৃতকারীরা। এছাড়া দুটি দানবাক্স ভাংচুর এবং অফিস কক্ষেও তান্ডব চালানো হয়।

বাইতুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক এবং আমাদের কমিউনিটি ও মসজিদে এ ধরনের ঘটনা বেদনাদায়ক। রাতের কোনো এক সময় জানালা বা দরজা দিয়ে দুষ্কৃতকারীরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে বলে ধারনা আতিকুর রহমানের। সকালে মসজিদে ঢুকে জানালা ও দরজা খোলা দেখতে পান তিনি।

ভাংচুরের সময় মসজিদের বেশ কিছু নজরদারি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দুষ্কৃতকারীরা। সেই সঙ্গে নজরদারি ব্যবস্থার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারও চুরি করে নিয়ে গেছে তারা। আতিকুর রহমান বলেন, আমার মনে হয় এটা পূর্বপরিকল্পিত। এ কারণেই আমরা কোনো কিছু দেখার উপায় নেই। স্কারবোরোর মজসিদে অনুপ্রবেশ করে তান্ডব চালানোর ঘটনা তদন্ত করে দেখছে টরন্টো পুলিশ। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজের সময় কিংস্টন রোড ও ব্রিমলি রোডের বাইতুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার খোলার পর ভাংচুরের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে।

এদিকে বারবার ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে থাকায় মুসলিম কমিউনিটি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এর ন্যায় বিচার দাবি করেছে। মসজিদের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ঘটনা মুসলিম কমিউনিটিকে ভয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং তারা আর মসজিদে দান করতে চাইছেন না। আগের ঘটনার ফুটেজ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। কিন্তু এখনও বিচার পাইনি এবং এ ধরনের ঘটনা চলছেই।

আটটি ঘটনার কথা এখনও মনে করতে পারেন মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাহাব সিদ্দিক। তিনি বলেন, পুলিশকে ডাকার পরও কাজের কাজ কিছু হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার বা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তাও আমরা জানি না। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং কিছু লোক আমাদের ঘৃণা করে। এটা বেদনাদায়ক এবং আমরা সত্যিই বিপর্যস্ত।

রোববার ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসা মুসল্লিরা এ ঘটনায় বেদনাহত হন। মসজিদটিতে এর আগে নামাজ আদায় করেছেন স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের এমপিপি (মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট) ডলি বেগম। সাম্প্রতিক ঘটনাকে বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের আরও কড়া পদক্ষেপ ও এ ঘটনার বিচার দাবি করে ডলি বেগম বলেন, যা ঘটছে সেটা দেখে আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। আমি এখানে নামাজ আদায় করেছি এবং এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখেছি।

এদিকে টরন্টো পুলিশের স্পেশাল কনস্টেবলরা তদন্তের জন্য রোববার বিকালে মসজিদে আসেন। তবে সম্ভাব্য সন্দেহভাজন এবং আগের ভাংচুরের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আতিকুর রহমান বলেন, আমরা কানাডিয়ান এবং কমিউনিটিতে আমরা শান্তিপূর্ণ জীবন চাই।

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles