19.7 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪

জিরো টলারেন্স বলে আখের গুছিয়ে বিদেশ পাড়ি দিবেন

জিরো টলারেন্স বলে আখের গুছিয়ে বিদেশ পাড়ি দিবেন
জিরো টলারেন্স বলে আখের গুছিয়ে বিদেশ পাড়ি দিবেন

বাংলাদেশের সরকারী রাজনৈতিক জোট ১৪ দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা জনাব রাশেদ খান মেনন বলেছেন সাবেক পুলিশ ও সেনা প্রধানের দুর্নীতির চিত্র হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরিভাগ মাত্র। হিমশৈল মানে হলো বরফের বিশাল টুকরা যা পানিতে ভেসে বেড়ায়। অনেক সময় ভাসমান এই বরফের আঘাতে বিশাল জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। তো এই বরফের টুকরার একটা ক্ষুদ্র উপরিভাগ মাত্র মানে দেশের সামগ্রিক দুর্নীতির একটা অতি ক্ষুদ্র অংশ হলো সাবেক পুলিশ ও সাবেক সেনা প্রধানের দুর্নীতির চিত্র।

এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। কিন্তু দু একটা প্রশ্ন এসে যায় তার মধ্যে একটি হলো এর দায় থেকে জনাব মেনন কি নিজেকে আলাদা করতে পারবেন? বিগত ষোল বছর তিনি সরকারের সরাসরি অংশ। মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জোটের প্রধান নেতা তিনি।

- Advertisement -

অপর প্রশ্নটি হলো, সাবেক পুলিশ প্রধানের যত সম্পদের কথা আমরা এখন শুনছি তা কি তিনি পুলিশ প্রধান হয়েই অর্জন করেছেন? তিনি ২০২০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত দেশের পুলিশ প্রধান ছিলেন। এই দুই বা তিন বছরেই কি তিনি এত সম্পদ অর্জন করেছিলেন? নিশ্চয়ই নয়। সকলেই জানেন তিনি আইজিপি হবার আগে অনেকগুলো পদে ছিলেন। ঢাকার পুলিশ কমিশনার, রেপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের প্রধান ছিলেন। নিশ্চয়ই ডিআইজি, এআইজি বা পুলিশ সুপার ছিলেন এক সময়। কথা হলো এতগুলো পদ ডিঙাতে তাকে অনেকগুলো পদোন্নতি নিতে হয়েছে।

এই পদন্নোতি যখন দেয়া হয় তখন তার যিনি উর্ধতন বস ছিলেন তিনি নিশ্চয়ই তার ভাল এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট) দিয়েছেন। যতবার তিনি পদন্নোতি পেয়েছেন ততবার নিশ্চয়ই তিনি ভাল এসিআর পেয়েছেন। তাহলে সেগুলো দিল কারা? অর্থাৎ এখানে কোন না কোনভাবে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে কিংবা জবাবদিহিতার অভাব ছিল। অর্থাৎ এসিআর যিনি দিয়েছেন তিনি অনেক কিছু জেনেও গোপন করে গেছেন বা ইগনোর করেছেন। অর্থাৎ কান টানলে যেমন মাথা আসে, সরকারী কর্মকর্তাদের কেউ দুর্নীতি করে থাকলে তা তার একার দায় নয়। একের সাথে অনেকে জড়িত থাকতে বাধ্য।

বদলী বা পদোন্নতি এসব কেউ নিজে নিজে করতে পারেন না। এই বদলী, পদোন্নতি এবং সরকারী কর্মচারী নিয়োগের যে রুলস এবং রেগুলেশনস আছে সেগুলো যথাযথ প্রয়োগ করা হলে কোন কর্মকর্তার দুর্নীতি করে অগাধ সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব নয়। কিছু পদ আছে আপনার যতই যোগ্যতা থাকুক আপনি পাবেন না যদি না আপনার প্রতি রাজনৈতিক বিশেষ কোন কৃপা থাকে। খুবই সংক্ষেপে যে কথাগুলো বলার চেষ্টা করলাম তা হলো হঠাৎ করে কোন সরকারী কর্মকর্তার পক্ষে দুর্নীতি করে অগাধ সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব নয়। যা কিছু দৃশ্যমান তা করতে অনেক বছর লেগেছে। দুই নম্বর পয়েন্ট হলো জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল, যারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন তারাও দুর্নীতির সাথে জড়িত না হলে কোন অসৎ লোক এতগুলো পদ ডিঙিয়ে আসতে পারতেন না।

অর্থাৎ দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্হার আমুল সংস্কার না হলে একজন দুর্নীতিবাজ যদুর পরিবর্তে অপর দুর্নীতিবাজ মধুর আবির্ভাব হবে এটাই আমরা বিগত পাঁচ দশক ধরে দেথে আসছি। কোন ব্যক্তির পক্ষে এসব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র সংস্কার না হলে যদু আর মধুরা লুটে পুটে খাবে। বাটপার শাহেদ টকশোতে এসে বড় গলায় বলবে, ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’, হালের ছাগল কান্ডে আলোচিত ও অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ মতিউর তার ৮৩ ব্যাচের বন্ধুদের সৎ কাজের নসিহত করে যাবে, কোরান হাদিসের বাণী উদ্ধৃত করে মানুষকে উপদেশ বিলি করে যাবেন। কেউ কেউ জিরো টলারেন্স বলে আখের গুছিয়ে বিদেশ পাড়ি দিবেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়তে থাকবে। আমরা সবই নিয়তি বলে মেনে নিব!

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles