15.7 C
Toronto
সোমবার, মে ২৭, ২০২৪

মধ্যপ্রাচ্য থেকে টরন্টো : দশ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে টরন্টো : দশ

সিঙ্গাপুরের যে জিনিষ টা অসহ্য ছিলো সেটা ছিলো তাপমাত্রা এবং আবহাওয়া । সারা বছরই গরম। শীত বা বসন্ত ভুলেও কখনো উঁকি মারে না। আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিলো বৃষ্টির খাম খেয়ালিপনা। তার যখন যেখানে মন চাইতো ঝরে পড়তো একেক সময় দেখেছি বাসার সামনের ব্যলকনিতে ঝম ঝম বৃষ্টি আবার তখনি ভেতরের বারান্দাতে এসে দেখেছি একফোটাও বৃষ্টি নেই ।

- Advertisement -

এ যেনো আমাদের সাথে বৃষ্টির লুকু চুরি খেলা। আরেকটা মজার ব্যাপার ছিলো আমাদের বিল্ডিং এ একজন ইংলিশ মহিলা ছিলেন, সে মহিলা শীতের জন্য খুবই আকুতি মিনুতি করতেন। আমাকে দেখলেই বলতেন উফফ একটু যদি ঠাণ্ডা বাতাস বাইরে থাকতো । সে মহিলাকে দেখতাম যদি কোন দিন কদাচিৎ ২০ ডিগ্রি সেল সিএস উঠতো সে দিন সেই ইংলিশ মহিলা সোয়েটার আর গলায় স্কার্ফ লাগিয়ে কাজে আসতেন। তিনি মনে মনে কল্পনা করতেন আজ শীত পড়েছে । বেচারী গরম আবহাওয়ার যন্ত্রণায় নিজের দেশে ফিরে যাবার সিধান্ত নিয়েছিলেন।

সিঙ্গাপুরে যেহেতু শীতের ছিটে ফোটাও ছিলো না সেহেতু তাদের তুষার পরা শীতল আবহাওয়ার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিলো । “নদীর এপার বলে ছাড়িয়া নিশ্বাস ওপারে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস “। সে ধরনের একটা মনোভাব ছিলো সবার মাঝে। ডিসেম্বর মাস থেকে বড় বড় মল আর শপিং সেন্টার গুলি সাজানো হোত কৃত্রিম তুষার দিয়ে দেখে মনে হতো সত্যিই তুষার পড়ে আছে। ক্রিসমাসের মতো চারিদিকে রঙ্গিন বাতি জ্বলছে । দোকানের ভেতর সেন্তাক্লস ঘুরে বেড়াচ্ছে বাচ্চাদের আনন্দ দেবার জন্য। আমার ছেলে মেয়ে মধ্যপ্রাচে ছিলো বলে সেন্তাক্লসের সাথে ওদের পরিচয় ছিলো না।

এই চরিত্রটাকেও ওরা মুখো মুখি কখনো দেখেনি। আমার মেয়ে বৃটিশ স্কুলে পড়তো বলে সেন্তাক্লস কে না দেখলেও সেটা সম্পর্কে সবই জানতো কিন্তু আমার বাচ্চা ছেলেটার কোন ধারনাই ছিলো না সেন্তাক্লস ব্যাপারটা কি? আমরা সে সময় বাচ্চাদের নিয়ে নানা জায়গাতে ক্রিসমাসের সাজসজ্জা দেখাতে বের হতাম। সে সময় একদিন মলে গেলাম ওদের নিয়ে। সেন্তাক্লস রুপি মানুষটি এগিয়ে এসে আমার ছেলেকে আনন্দ দেবার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ড শেখ করার জন্য, আমার ছেলে যেহেতু এই সাজ তার ক্ষুদ্র জীবনের কোন দিন দেখেনি তাই বেচারা ভয়ে চিৎকার করে ওর বাবার কোলে উঠে গেলো ।

সেন্তাক্লস আমার ছেলের এই অবস্থা দেখে নিজেই পালিয়ে অন্য বাচ্চাদের কাছে চলে গেলো । আমার মেয়ে খুব লজ্জা পেয়েছিলো সেদিন ছোট ভাইটার অজ্ঞতা দেখে। সিঙ্গাপুর অনেক খৃষ্টান ধর্ম্যাবলম্বি চাইনিজ ও ছিলো । সবাই চাইনিজ নতুন বছর পালন করতো অনেক ধুমধাম করে।

আমাদের সুযোগ হয়েছিলো সিঙ্গাপুরের চিইনিজ বন্ধুদের বাড়িতে তাদের নতুন বছরের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করার। তাদের ট্র্যাডিশন ছিলো সব বাচ্চাদের হাতে একটা করে ম্যান্ডারিন ( কমলা ) আর একটা খামে দুই ডলার করে উপহার দেয়া। সিঙ্গাপুরে যার যার নিজস্ব ভাষা থাকলেও রাষ্টিয় ভাষা ইংরেজি। কাজের সুত্রে প্রচুর সিঙ্গাপুরিয়ান অনেক বন্ধু আমার হয়েছিলো । তাদের মাঝে অনেক বন্ধু সুলভ মনোভাব পেয়েছি, তাদের কথা এখনো মনে পরে। মনের গোপনে কতো দেশের কতো মানুষের চিত্র যে আঁকা আছে যা কখনো ভুলে যেতে পারিনি।

ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles