26.4 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪

রাফসান দ্যা ছোট

রাফসান দ্যা ছোট

রাফসান দ্যা ছোট ভাইটা আবার কে? আজই দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় তার সম্পর্কে একটা লেখা পড়ে এবং একজন পরিচিত ফেসবুকারের পোষ্ট পড়ে জানলাম এই নামে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর দুইকোটি টাকা দামের অডি গাড়ী তার বাবা মা কে উপহার দিয়েছেন।

- Advertisement -

ফেসবুক ইউটিউব মানুষকে অনৈতিক ও অধঃপতনের যত নীচু জায়গায় নিয়ে যেতে পারে তা করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। যার ফলে তারা আপনার ফেসবুক পোষ্টিং কত লোক দেখলো বা ভিউ হলো তার উপরে ভিত্তি করে টাকা বিলি করছে। ফলে মানুষ ঐ দুই টাকার লোভে যা খুশী তাই করছে। দেখা যায় একজন লোকের পোষ্টে পাঁচ হাজার লাইক পড়েছে অথচ আপনি সংখ্যার উপরে ক্লিক করলে দেখবেন সর্বোচ্চ দশ বারো জন আপনার মিউচুয়াল ফ্রেন্ড বা পরিচিত আর চার হাজার নয়শত নব্বই জন একেবারেই ইবনে মিজানের যাদুর কাঁথা। অর্থাৎ অটো লাইক কিনে লাইক নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অটো লাইক কেনা বেঁচার একটা অনৈতিক বাজারও রাতারাতি তৈরী হয়ে গেছে।

হয়তো রাফসান দ্যা ভাইজান কিছু ভাল কাজের কনটেন্টও তৈরী করেছে কিন্তু সবার পক্ষে এটা করা সম্ভব না হলেও লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ যুবকদের উপর এটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে তারা এই ভিউ বা লাইক শেয়ার কামাতে নুতন কোন ভাল আইডিয়ার পরিবর্তে পতিতালয়ে গিয়ে একজন পতিতার কোমড় দুলানো থেকে শুরু করে দৌলতদিয়া পাটুরিয়ার ফেরীতে কিভাবে জুয়ার বোর্ড বসিয়ে টাকা জেতা যায় সেই কনটেন্টও আপলোড দিয়ে দিতে পারে। হিরোইন বা ফেনসিডিল খেয়ে কিভাবে রাতারাতি দুঃখকষ্ট ভুলে থাকা যায় সেই কনটেন্টও জনপ্রিয়তা পেয়ে যেতে পারে।

কাজেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে টাকা কামানোর ধান্দা না করে আবারো সকলের মনযোগ দেয়া উচিত কিভাবে নিজেকে সমাজের একজন যোগ্য ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন সেদিকে। পড়াশুনা করে, টেকনিক্যাল স্কিল অর্জন করে নিজেকে টাকা কামানোর এবং সমাজের উপকারে আসার উপযোগী না করতে পারলে ঐসব কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কারণে একদিন সামাজিক সকল শৃংখলা ভেঙ্গে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার ফল কী হবে তা আজ আর বিস্তৃত ব্যাখা করা থেকে বিরত থাকলাম।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles