12.9 C
Toronto
রবিবার, মে ২৬, ২০২৪

বাগেরহাট টু কানাডা

বাগেরহাট টু কানাডা
সৈয়দ আযম

১৯৯০-৯৩। বাগেরহাট এর দিন গুলি খুব ব্যস্ততায় কাটতো। পোর্ষ্ট মর্টেম, মেডিকোলিগ্যাল এক্সামিনেশন এর পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও ব্যস্ত দিন পার হতো।নতুন এবং প্রথম এ ধরনের দায়িত্ব ।মাত্র দুদিন জ্বরে পড়ে ছিলাম বাসায় এছাড়া আর মনে পড়েনা কাজে অনুপস্থিতি। চাকুরীর পাশে পাশে কয়েকটি বিষয় সামলাতে হতো।কিছু কিছু জেলায় সিভিল সার্জন(সিএস) এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন (ডিসিএস) দুজনাই থাকে। এই দুজনেরই মন যুগিয়ে চলতে হয়।বাগেরহাটেও তাই ছিলো।সিএস স্যার আমার আত্বীয় তাই এ বিষয়ে তেমন অসুবিধা ছিলনা তবে সমস্যা ছিলো ডি সি এস কে নিয়ে কারন তিনি আমাকে মেরুকরন করে ফেলেছিলেন।যাহোক ডিসিএস কে যথেষ্ট সম্মান প্রদান করাই ছিলো আমার লক্ষ।অনেকদিন সি এস স্যারের কাজে প্রতিবাদ করেছি যখন দেখেছি ডিসিএস স্যারকে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা।

কোন এক বৎসরের শেষে বাৎসরিক চাকুরীর প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।কিছুদিন পর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার(এমও সিএস)আমাকে জানালেন যে তার আর আমার এসিআর দুটিতে মন্তব্য এর কলামে লেখা হয়েছে ‘পদন্নোতির যোগ্য নয়’। মূলত এটি লেখা থাকে এভাবে-পদন্নোতির যোগ্য/যোগ্য নয়’ আমাদের এসিআর সিএস স্যার ডিসিএস মহোদয়কে দিয়েছিলেন নম্বর যোগ করে দেয়ার জন্য।হয়তো তিনি তাকে দিয়ে এই কাজটি করিয়ে ছিলেন তাকে সব কাজে যুক্ত করার অভিলাষে।

- Advertisement -

ডিসিএস এই সুযোগে আমাদের দু জনার এসিআর এ উক্ত ‘যোগ্য’ শব্দটি কেটে দিয়েছিলেন।এতে উক্ত বাক্যটি হয়েছিলো –পদন্নোতির যোগ্য নয়।আমি সিএস এর আত্বীয় আর এমও সিএস সিএস স্যারের নিকটের- আমাদের দুজনার অপরাধ এই।
এতো কষ্ট করি আর তার প্রাপ্তি এই? মন খারাপ হয়ে গেল।সিএস স্যারের সাথে দেখা করলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন-কে তোমাকে বিষয়টি বলেছে? বললাম- আপানি ভালো করে জানেন কে বিষয়টি বলতে পারে?তিনি আর কিছু বললেন না। শুধু বললেন-আমি বুঝতে পারিনি উনি এমন কাজ করবেন। বললেন তিনি সব ঠিক করে দেবেন। পরে তিনি কেটেকুটে ঠিক করে দিয়েছিলেন। কাউকে আর কিছু বলিনি এ বিষয়ে।

এ ঘটনার অনেক পরে তখন আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পণা শাখায় গবেষণা কর্মকর্তার পদে কাজ করছি।জানতে পারলাম উক্ত ডিসিএস সাসপেন্ড হয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন।একদিন তাকে পথ থেকে আমার রুমে নিয়ে এলাম। এরপর তিনি প্রায়ই আসতেন। তাকে চা খাইয়ে আপ্যায়ান করতাম।মাঝে মাঝে চুপ করে একনিবিষ্টে তাকিয়ে তাকতেন আমার দিকে।পুরানো কোন বিষয়ে কখনই যেতাম না।একজন প্রতিশ্রুতিশীল চাকুরের এ সব নিয়ে মাথা ঘামালে চলে না ভেবে এগুলো মনের কোনে স্থান দিতাম না।বিনিময়ে হতাম কুশলী।জানিনা আমার সামনে বসে সে সময় ডি সি এস স্যারের মনে তার সেই অতীত কর্মের কথা মনে পড়তো কিনা!

আপনি যখন সত্য ও ন্যায়ের পথে অন্যদের জন্য কাজ করবেন তখন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ আপনার অভিষ্ট লক্ষ থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না।সেটা জীবনে বারবার প্রমানিত হয়েছে।

ইনুভিক, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles