22.1 C
Toronto
সোমবার, মে ২০, ২০২৪

বিশ্ব আজ উগ্রবাদীদের নিয়ন্ত্রণে

বিশ্ব আজ উগ্রবাদীদের নিয়ন্ত্রণে

গোটা বিশ্ব আজ উগ্রবাদীদের নিয়ন্ত্রণে। মানুষের চিন্তা চেতনায়ও উগ্রতার লক্ষণ সুস্পষ্ট। বিনয়, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং আত্মসম্মানবোধ আজ উধাও বলে অনেকটাই পরিলক্ষিত।

- Advertisement -

যে কোন প্রকারেই হোক জিততে হবে মনোভাবই উগ্রতার জন্মের প্রধান কারণ। যে জিনিষ আমার নয় সেটা আমার নিতেই হবে, যে মতবাদ আমার নয় সেটা ধ্বংস করে দিতে হবে, এই হলো বর্তমানে মানুষের মানসিকতা।

সাম্প্রতিককালে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, এমনকি ইউক্রেন কি গিয়েছিল কোন দেশকে আক্রমন করতে বা দখল করতে? যায় নি। অথচ এসব দেশকে ধ্বংস করে দেয়া হলো। তাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলো।
সিরিয়ায় ইরানের দুতাবাসে হামলা করে তাদের অনেক লোককে হত্যা করা হলো।
তারও আগে ইরানে সরাসরি আক্রমণ করে তাদের উচ্চ পদস্হ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হলো। এখন ইরান যখন আত্ম সম্মান বাঁচাতে সামান্য একটু হাত পা নাড়িয়েছে সকল পরাশক্তি ও তাদের দোসররা ইরানকে দোষারূপ করছে।
পাশের দেশ ভারতে গনতন্ত্র নির্বাসিত হয়েছে বহু বছর আগে। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীরা অনেক বছর হলো ক্ষমতায়। গনতন্ত্রের কফিনে সর্বশেষ পেরেক ঠুকালো দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী কেজরীওয়ালকে গ্রেফতার করে। তাও একেবারে লোকসভা নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে। উদ্দেশ্য পরিস্কার, মৌলবাদী বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় ফিরে আসা নিস্কন্টক করা। দলে দলে সাংস্কৃতিক কর্মী, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক নায়িকারা মৌলবাদী বিজেপি দলে যোগ দিচ্ছে। পাঠক একবার ভাবুন, বাংলাদেশে যদি জনপ্রিয় নায়ক নায়িকারা জামাতে ইসলামী দলে কিংবা খেলাফতে মজলিস দলে যদি যোগ দিত, অনেকের প্রতিক্রিয়া কী হতো?

অনেকেই বাংলাদেশে হিজাব, টুপি, বোরখা পরিধানকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খুবই চিন্তিত বলে মাঝে মাঝে খবর প্রকাশিত হয়। অথচ বিগত পনের/ষোল বছর ধরে সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। যদি বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে নিশ্চিন্তে এই হিজাব বোরখার সংখ্যা বেড়ে যাবার জন্যে বিএনপি বা জাতীয় পার্টিকে দায়ী করে বলা হতো মৌলবাদী বা সামরিক জান্তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেশে মৌলবাদকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা দেয়ার ফল হচ্ছে হিজাব টুপি বোরখাধারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবার কারণ! তাহলে এখন কেন বাড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে অবশ্যই সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে।

মনে রাখতে হবে উগ্রবাদীতা উগ্রবাদীতার জন্ম দেয়। ষাট এবং সত্তর দশকে সমাজতন্ত্র ও কম্যুনিজম ঠেকাতে যারা তৎপর ছিল তারাই বিগত তিন দশক ধরে ইসলাম ঠেকাতে বিশেষ তৎপর। যে ভারত ছিল ধর্ম নিরপেক্ষতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তারাই আজ মৌলবাদের গভীরে প্রোথিত। জর্জ বুশ জুনিয়রের সেই বক্তব্য ‘হয় তুমি আমার পক্ষে, না হলে আমার বিপক্ষে’ নীতি গোটা বিশ্বকে উল্টে পাল্টে দিয়েছে। এর সুযোগ নিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশের একনায়কবাদীরা। গনতন্ত্রের মই বেয়ে ক্ষমতায় গিয়ে যারা একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন তাদের চেলাচামুন্ডেরা তাই হা হুতাশ করেন দেশে হিজাবধারীদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে! অথচ একটিবারও এর রুট কজ খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন না। একটিবারও ভাবেন না যে আপনার নিজের উগ্রবাদীতা অন্যের মধ্যেও উগ্রবাদীতারই জন্ম দিচ্ছে। আপনি পরীক্ষার হলে, ক্লাসে, ক্যাম্পাসে যত বেশী মানুষের পোষাক পরিচ্ছদ নিয়ে টিটকারী মারবেন, প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবেন ততবেশী এসবের প্রতি মানুষের মোহ তৈরী হবে। কারণ মৌলবাদীতার বিরোধীতার নামে আপনিও চরম মৌলবাদীতার আশ্রয় নিয়েছেন। মনে রাখবেন উগ্রতা উগ্রতারই জন্ম দেয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles