15.2 C
Toronto
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৪

মাকে যদি

মাকে যদি

হ্যালো মামা
– বলো খবর-সবর বলো..
– দেখলাম তুমি কানেক্টেড; যদিও সময় নষ্ট..
– তোমার কাজই তো খালি আমার সময় নষ্ট করা..
– শরীর কেমন তোমার?
– গরীবের আবার শরীর..
– বিড়ি-টিড়ি খাচ্ছো না তো?

- Advertisement -

– ছি ছি.. রোজা রমজানের দিন। এসব হাবিজাবি কবে ছেড়ে দিয়েছি..
– গুড, ডাক্তারের কথা শুনবা। আমার মামা হয়ে তুমি এই জিনিসটা যুগ যুগ ধরে কীভাবে খাইতা?
– ই-সিগারেট ছিল না যে?
– আচ্ছা মামা, এই ই-সিগারেট জিনিসটা কেমন?
– এটা জাস্ট একটা খেলনা.. সিরিয়াস কিছু না-+
– দাম?
– তোমাকে নিয়ে আর পারি না.. গতকাল একটা কার্টিজ কিনলাম সতেরশো
– কতদিন যায়?
– আমি তো তেমন টানি-টানি না.. তা যায় মাসখানেক
– সুবিধা কী?
– অনেক মামা অনেক (আবার খানিকক্ষণ নিরব, কোনো একটা কাজে ব্যস্ত)। আগুন লাগে না, ব্যাটারি লাগে না; রিচার্জেবল। ঝড়-বৃষ্টিতে নিভে না, ছাতা লাগে না, ছাই ফেলার কারবার নাই। তুমি যতটুকু নিকোটিনের চাও; সে হিসাবে কিনবা.. সেহরির সাইরেনের আগে এক টান দিয়ে (আবার খানিকক্ষণ সে চুপচাপ, খুটখাট আওয়াজ হলো) ইফতারের পর আরেক টান দেয়া যায়; যখন খুশি। এই দেখো.. তোমার সাথে কথা বলতে বলতে অলরেডি একটা টান দিয়েও ফেলেছি। তোমার মামিকে দেখে চাদরের তলায় চট করে লুকায়ে ফেললাম, ব্যাস?

– বলো কি!
– আবার জিগায়.. অনেক ফ্লেভার! স্ট্রবেরি, ভ্যানিলা, ম্যাংগো, লিচু। বিদূষী ভাববে তুমি চকলেট খেয়ে আসছো..
– মামা, কোনো সিগারেটই ভালো না। বাঁচতে হলে ছাড়তে হবে
– আচ্ছা যাও, বাদ। আচ্ছা.. তোমার এই কথাটা জানি কোথায় শুনেছি, কোনো এড এ?
– থাক ওসব, যে জন্য তোমাকে ফোন দিছি। তুমি ছাড়া আর কাকে বলবো?
– তাইতো!
– তোমার কাছে জীবনে কিছু চাইছি?
– কক্ষনো না! তবে নেক্সটবার তুমি ঢাকা আসলে তোমাকে শাহী কচুরি খাওয়াবোই। তুমি আমার বোনের কাছে কম্প্লেইন করছো। কত বকা খেলাম
– মামা, তুমি তো টরন্টো আসতেছো; বলো তো দুনিয়ার সবচাইতে খারাপ জার্নি কোনটা?

– কোনটা আবার, প্লেনে ঢাকা থেকে টরন্টো’র পচিশ ঘন্টার জার্নি?
– গুড, এখন চিন্তা করে দেখো, তোমার সবচাইতে প্রিয় বোনটা যদি ঠিক তোমার পাশের সিটে বসে গল্প করতে করতে আসে? তখন কেমন লাগবে?
– উফ, জবর! কিন্তু আমার সব বোনই তো প্রিয়?
– মামা, আম্মার পাসপোর্ট এ অনেক ঝামেলা। ঠিকঠাক করা যায় কিনা একটু দেখবা? তোমার তো অনেক পরিচিত মানুষ আছে। আর যে বুদ্ধি তোমার..
– আচ্ছা দেখবো
– আগেও বলছি, তুমি আমার বেস্ট মামা
– এই ফাজিল, তোমার মামা কয়টা?
– তোমার সেজো বোনটাকে একটু কানাডায় আনতে চাই; নিজের কাছে কিছুদিন রাখতে চাই। বিত্ত দখিনাও খুব চায়, তোমার বৌমা চায়। আম্মার সার্টিফিকেটে নামের বানান ভুল, এনআইডি ভুল; শুধু ভুল আর ভুল..
– আমি দেখতেছি..

– না পারলে বইলো। গতবার তোমাকে নিয়ে বেশি বেড়াতে পারিনি, এটা-সেটা কিনে দিব; সেটাও পারিনি। এতোই গরীব ছিলাম..
– এবার কিন্তু নোভা স্কশিয়া যাবো
– মামা, শুধু তুমি আসো, তোমাকে নিয়ে শুধু হ্যালিফ্যাক্স না, নিউফাউন্ডল্যান্ড যাবো, ভ্যাঙ্কুভার ঘুরবো..
– সেই ডলারামার পালিশ করা বাদাম, কান্দাহারের মাটন কাবাব আর পপেয়েজের পুতিন খাওয়াবা

-প্রমিজ! শুধু তুমি আম্মার কাগজপত্র ঠিকঠাকমতো হচ্ছে নাকি খেয়াল রাখবা। কাগজপত্র ঠিক হওয়া মাত্রই আমি এপ্লাই করে দিবো ভিসার জন্য
– আমার একটু আমেরিকা যাওয়ার শখ ছিল..। ভিশা দেবে না?
– দিবে না মানে! আমেরিকার বর্ডারে তোমাকে আটকালে এমন অনশন শুরু করবো! ওরা ভয় পেয়ে চিকেন ফ্রাই সাধবে! দাওয়াত দিয়ে আমেরিকা ঢুকাবে! কত মামায় কত ভাগ্না, হাড়ে হাড়ে টের পাবে!
শুধু তোমার বোনটার এই উপকারটুকু কইরো..
– করবো। আর ক্যাম্পিং? এবার কিন্তু যাবোই। জঙ্গলে রাতে জ্বালাতন করা সেই ফাজিল রাকুনগুলোকে এমন পিটুনি দিবো! তোমাদের ওখানে বিশাল হরিনের মতো জিনিসটার নাম যেন কী?

– মুজ?
– হ্যা হ্যা, মুজ। মুজ শিকারে যাওয়া যাবে না?
– আলবৎ যাবে। দাঁড়াও, এবার রাইফেল চালানো শিখে লাইসেন্স নিবো। তারপর ভারি রাইফেল হাতে মামা-ভাগ্না একদম নর্থে চলে গিয়ে হরিণ শিকার করে গাড়ি ভর্তি করে গোস্ত এনে তাবৎ আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধু বান্ধবের মধ্যে বিলাবো। মুজের মেজবানি হবে। হরিনের হালিম বানাবো। তুমি তো ভালো মাংস বানাতে পারো..
– পারি মানে! দুই ঘন্টার মধ্যে আস্ত আইড় মহিষ সাইজ করার সুনাম আমার বহু কালের। কিছু রাজ হাঁসও কিন্তু লাগবে
– ব্যাপার না, ছড়ড়া বন্দুক দিয়ে ঝাঁকে একটা গুলি করলে আট-দশটা আলগোসে পড়বে.. শুধু..
– আবার শুধু কী?
– আমার মাকে যদি এনে দাও..
“ও তোতা পাখিরে
শিকল খুলে উড়িয়ে দিব
মাকে যদি এনে দাও
আমার মাকে যদি এনে দাও”…
.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles