6.6 C
Toronto
রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০২৪

একটি দুঃখজনক আত্মহত্যা !!

একটি দুঃখজনক আত্মহত্যা !!
সংগীত শিল্পী সাদির আত্মহত্যা এবং মানষিক রোগ বা রুগীর প্রতি সমাজের বিরূপ দর্শীতভঙ্গি

সংগীত শিল্পী সাদির আত্মহত্যা এবং মানষিক রোগ বা রুগীর প্রতি সমাজের বিরূপ দর্শীতভঙ্গি !

হঠাৎ করেই FB চেক করতে গিয়ে আমার বড়ো ভাইয়ের বন্ধু শ্রদ্ধেয় Liaquat Khan ভাইয়ের পোস্ট থেকে জানতে পারলাম স্বনামধন্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদি আত্মহত্যা করছেন। খুবই shocking! উনার কাজ আমার অনেক পছন্দের ছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে উনার পরিবার অনেক সাফার করেছে। উনার বাবাকে শত্রুরা টুকরো টুকরো করে কেটে মেরেছে। উনার একটি সাক্ষাৎকারে সেটি আমি বিস্তারিত শুনেছি। ওই বয়সে ওই রকম মর্মান্তিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা নিঘাত PTSDআক্রান্ত হওয়া। এরপর বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন তো আছেই।

- Advertisement -

কানাডা বা পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মানসিক রোগের প্রতি মানুষের স্টিগমা এখনো রয়ে গেছে, যদিও তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে, আর, এটি যখন বাংলাদেশের মতো দেশে ঘটে তখন একেতো নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং রিসোর্স, তারপরে আবার স্টিগমা তো আছে প্রকট ভাবে, যার কারণে মানুষ এগুলি যতদূর পারে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে বা Self-treatment করার চেষ্টা করে, যার ফল unfortunetely অনেক ক্ষেত্রে এই রকম হয়। উনি বিখ্যাত লোক বলে সবাই জানছে, এই রকম অনেক ঘটনা ঘটে কিন্তু সাধারণ মানুষ বলে কেই সেগুলির খবর রাখে না।
উনি আসলে কি কখনো কোনো প্রপার ডায়াগ্নোসি করছেন কি না জানিনা, আমি তো বলছি PTSDর কথা, উনার ডিপ্রেশন, PTSDর পাশাপাশি অন্য কিছু কোনো কিছু ছিল কি না তাও আমরা জানিনা।

অনেক নিউরোলোজিক্যাল বা ফিজিক্যাল সমস্যার কারণে মানুষের অনেক মানসিক রোগের যখন থাকতে পারে, তাকে যদি তখন মানষিক রোগের ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয় তাহলে সেটা ভালো না করে খারাপ করতে পারে।

আমরা সবাই হলিউডের নাম করা কমেডিয়ান ষ্টার Robin Williams এর কথা জানি, উনি ২০১৪ সালে ৬৩ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার নাম, কাম, টাকা, পয়সা, পরিবার সবই ছিল। প্রথমত rumour ছিল উনি ডিপ্রেশন এবং addictionনে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু উনার মৃত্যুর পরে autopsy এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর জানা যায় উনার Lewy body dementia (LBD) নামের নিউরোলোজিক্যাল একটি অসুখ ছিল যেটা কিনা প্রথম দিকে misdiagnosis ছিল। Depression বা Addiction নয় বরং এই LBD রোগের অর্পিতরোদ্ধ সিম্পটোমগুলিই তার আত্মহত্যার অন্যতম কারণ ছিল বলে জানা যায়।
অনেক সময় একই ঘরে বা একই বিছানায় থেকেও একে ওপরের মধ্যে অনেক দূরত্ব থাকে যেটি হয়তো সহজে অনুমেয় নয়, আবার হাজার মাইল দূরে থেকেও সেই দূরত্ব থাকে না। একজন মানুষের যখন সত্যিকারের কাছের কারো প্রয়োজন হয় তখন যদি এই জাতীয় দূরত্ব তৈরি হয় তাহলে সেটি আরো ভয়াবহ !! এই দূরত্বের ভয়াবহতা টরন্টোবাসী বিগত বছরে অনেক দেখেছে, অনেকগুলি যুবক/যুবতীর আত্মহত্যা। নেসার এবং মোস্তফা ভাইয়ের “ফারাক” এই বিষয়ে বিস্তারিত জানবেন।

আমি মনে হয় গত বছরে বাংলা মেইল পত্রিকায় একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম, বিষয়টি ছিল সমাজ বা কমুনিটির মানুষের মানসিক রোগে আক্রান্ত রুগীর বা তার পরিবারের প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্টিগমা খোদ মানসিক রোগের থেকে শতগুন ক্ষতিকারক !!! যে কারণে আমাদের সমাজের অনেক মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হলে বা সিম্পটম দেখা দিলে তারা একেবারে দেওয়ালে পিঠ না ঠেকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। আমরা ক্লায়েন্টের যে ফাইলগুলি পাই তাদের বড়ো একটি অংশ অনেক দেরি করে আমাদের কাছে আসে।

যাহোক, আপনার নিজের, বা পরিবারের কারো অথবা কোনো বন্ধুবান্ধবের যদি এই রকম কোনো সিম্পটম হয় তাহলে তাকে দ্রুত প্রফেশনাল ট্রিটমেন্ট করুন, এবং সবার প্রতি অনুরোধ যাদের কোনো ধরণের মানসিক সমস্যা আছে তদেরকে অনুগ্রহকরে অন্য চোখে দেখেবন না। এই অসুখটি হয়েছে বলে সে সমাজের বাইরের কেউ না। তাছাড়া কেউ যদি বিশ্বাস করে তার এই সমস্যার কথা আপনাকে বলে, তার বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না, তার গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। যদিও আমি প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করি না তথাপি মাঝে মধ্যেই আমাদের কমুনিটির অনেকের কল পাই। উনাদের প্রথম কথা থাকে, “ভাই kindly ব্যাপারটা কারো সাথে আলাপ করবেন না, আপনাকে বিশ্বাস করে বলছি”. দেখুন তাহলে মানুষের মনে কিভাবে একটা অবিশ্বাসের স্ট্রং ধারণা জন্মে গেছে। এই ধারণা দূর করা আপনার, আমার সবার দায়িত্ব।

মানুষের ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির কথা জানলেও আমরা তার প্রতি বিরূপ ধারণা করি না, কিন্ত কোনো ধরণের মানসিক রজার কথা শুনলেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যরকম হয়ে যায়।

অনেকেই এই লেখা পড়বেন, হয়তো কমেন্টও করবেন কিন্তু তারই যদি কোনো আত্মীয়র কোনো পরিবারে বিয়ের কথা হয় তাহলে অনেকেই সেই পরিবারে সম্পর্ক করতে গড়িমসি করবেন। এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে তা না হলে আমরা সাদির মতো দুঃখজনক ঘটনা আরো দেখবো।

আর একটি কথা, সবার জন্য। আপনি নিজেকে কানেক্টেড রাখুন। সেটি যেভাবে পারেন, হতে পারে আপনার রবের প্রতি, আপনার ধর্মীয় এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতি, প্রকৃতির সাথে, প্রিয়জনের সাথে, লেখা বা পড়ার সাথে এবং সর্বোপরি নিজের সাথে ! আপনার পরিচিত অনেক মানুষের দরকার নেই, অন্তত পক্ষে ২/১ জন Non-judgemental, বিশ্বাসী এবং Good Listener আপনার জীবনে থাকা খুব প্ৰয়োজন।
উনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles