15.2 C
Toronto
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৪

আমাদের একুশে

আমাদের একুশে

একুশে ফেব্রুয়ারি কী দিবস?
স্বাধীনতা দিবস!
একাত্তরে কী হয়েছিল?
ভাষার জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল!
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?
ভুলে গেছি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কী?
দুঃখিত জানি না।
তবুও আমি নিরাশ হই না।
এরমধ্যেও আছে যৎসামান্য লব্ধি। যেমন;
(এক) সব প্রশ্ন বাংলায়
(দুই) সব উত্তর বাংলায়
(তিন) সব প্রশ্ন বাংলাদেশ সংক্রান্ত
(চার) আমাদের নিজস্ব কিছু দিন আছে
(পাঁচ) আমাদের স্বাধীনতা আছে
(ছয়) ভাষার জন্য আমাদের মানুষ শহীদ হয়েছে
(সাত) একাত্তরে সাংঘাতিক কিছু একটা হয়েছিল
(আট) আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাঙালি
(নয়) আমাদের রাষ্ট্রপতি বাংলায় কথা বলেন
(দশ) যা জানা প্রয়োজন দেশে বিদেশে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

- Advertisement -

প্রাপ্তি হলো, উত্তর না জানা থাকলেও জিজ্ঞেস করার মতো আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। জিজ্ঞেস করার মতো কোন প্রশ্ন যদি না থাকতো তাহলে গুরুত্বহীন হয়ে থাকতাম। কাজেই প্রশ্ন যখন আছে উত্তর একদিন জানবে লোকে। সবসময় সবাই সবকিছু জানে না। না জানার পরিমাণ অধিক হলে প্রয়োজনে তা বাড়ানো সম্ভব। যা একজন জানে না তা হয়তো অন্যজন জানে।

গৌরবের বিষয় হোক কিংবা সাধারণ জ্ঞান, না জানা অজ্ঞতা তবে তার থেকে বেশি হয়তো অবহেলা ও অনাগ্রহ। মানুষ বেশি আগ্রহী হয় প্রয়োজনীয় বিষয়ে। প্রয়োজন চিহ্নিত হলে আগ্রহ বাড়বে। আপাতত মনে হচ্ছে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর প্রতি কিছু মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
ওরা হয়তো মনে করছে যদিও এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরী তবে পালন করাটাও জরুরী। সবাই নিশ্চয় বলবেন জেনে পালন করা বেশি জরুরী। আমিও মানি, তবে কথা হলো একজনের আগ্রহ অন্যের আগ্রহের সাথে নাও মিলতে পারে। সময় প্রবাহ কেন যে কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের অনাগ্রহী করে তোলে সেটাও একটা প্রশ্ন হতে পারে। অন্যদিকে যারা সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাদের কথা তেমন প্রচার হয় না। আবার যিনি প্রশ্ন করেন তিনি নিজে কোন প্রশ্ন নেন না। কাজেই হাসাহাসি এক বিষয়, অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলা অন্য বিষয়।

বলা যায় যে, আমাদের গৌরবের বিষয় সমূহ সঠিকভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু না জানা কতটুকু লজ্জার? লজ্জার হলে আমরা লজ্জা পাচ্ছি না কেন? আবার লজ্জা পেলে লজ্জা নিবারণের উপায় কী? ফিরে আসি আগের কথায়। প্রশ্ন করা যায় এমন কিছু বিষয় অতীতে তেমন ছিল না। ধাপে ধাপে কিছু গৌরবময় কাজ আমরা করেছি যার ফলে কিছু প্রশ্ন অর্জিত হয়েছে আমাদের গৌরব ভাণ্ডারে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক কিছু আসবে ঝুড়িতে। তখন প্রশ্নের মাত্রাও বেড়ে যাবে। কাম্য না হলেও তখন আরও বেশি ভুল হতে পারে। মনে রাখতে হবে বর্তমান পৃথিবীতে কিছু কিছু গৌরবহীন জাতিও আছে। আবার কোন জাতি হয়তো এক বা বহুবিধ গৌরব অর্জনের অধিকারী। কেউ হয়তো হারিয়ে ফেলেছে তাদের অতীতের গৌরব। পৃথিবীর কোথাও কেউ প্রতিদিন ধারাবাহিক ভাবে উচ্চ প্রশংসনীয় কীর্তি করে যাচ্ছে না। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে দিয়ে হয়তো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উচ্চ প্রশংসিত হচ্ছে কিন্তু জাতীয় গৌরব অর্জন হয় যুগ এবং মহাকালের শূন্যস্থান পূরণ করার মধ্য দিয়ে। তাই উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ কেউ না জানলেও অন্যেরা হয়তো জানেন। সন্তুষ্টির জায়গা হলো; যার কিছু নেই তার কোন প্রশ্ন নেই। কাজেই প্রশ্নগুলোই আপাতত উত্তর।

একাত্তরের মার্চ অনেক বেশি স্মরণীয়। মার্চ মাস আমাদের অনেক বেশি আপন। মার্চ মাস বাঙালির মাস। মার্চ, আমার দু’নয়নে শ্যাওলা বাঁধা ঘাট।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles