যে ৫ কারণে কিউইদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ভারত

- Advertisement -
বিরাট কোহলি

মরা-বাঁচার ম্যাচ ছিল এটি। কিন্তু সেই ম্যাচে ‘বাঁচার’ ন্যূনতম সুযোগও তৈরি করতে পারেনি ভারত। যার ফলে নিউজিল্যান্ডের কাছে পুরোপুরি উড়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত। সেইসঙ্গে কার্যত ছিটকে গেলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই। আসুন, একনজরে দেখে নেয়া যাক, কোন পাঁচ কারণে কিউইদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ভারত-

জঘন্য শুরু:
এখানেই আইপিএল খেলেছেন ভারতীয়রা। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোও দেখেছেন বসে বসেই। টসে হেরে সন্ধ্যার ম্যাচ জয়ের জন্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে হতো ভারতকে। অথচ প্রথম চার ওভারে ভারত তোলে মাত্র ১৪ রান। ততক্ষণে এক উইকেট চলে যায়। পঞ্চম ওভারে কিছুটা রান আসে। কিন্তু ষষ্ঠ ওভার থেকে আবারও ভারতের রানের চাকা এমনভাবে থমকে যায় যে, কার্যত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলিরা।

- Advertisement -

জঘন্যতম ব্যাটিং:
যতটা আশা করা হয়েছিল, তার থেকেও ধীর গতির পিচ ছিল দুবাই ডিএসসি। সেসব বিচার করেও চূড়ান্ত হতাশ করেছেন কোহলিরা। নিজেদের স্বাচ্ছন্দের জায়গার বাইরে গিয়ে কার্যত কোনও রানই করতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটাররা। সাতজনের মধ্যে ছ’জন ব্যাটারই চূড়ান্ত হতাশাজনক কায়দায় আউট হয়ে যান। এক মুহূর্তের জন্যও ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটাররা।

বাউন্ডারিহীন ১২ ওভার:
৫ম ওভারের প্রথম বলটি যে বাউন্ডারির বাইরে গিয়েছিল, তারপরের বাউন্ডারি আসে ১৭তম ওভারের শেষ বলে। অর্থাৎ প্রায় ১২টি ওভারে কোনও চার-ছক্কা মারতে পারলেন না ভারতীয় তারকারা। এমন পরিসংখ্যানের পর কোনও দলেরই টি-টোয়েন্টি জয়ের সম্ভাবনাই কার্যত থাকে না।

দুর্দান্ত ইশ সোধি:
চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচেরই সেরা খেলোয়াড় হন কিউই স্পিনার ইশ সোধি। আউট করেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে। এখানেই মূলত ৭৫ শতাংশ ম্যাচ হেরে যায় ভারত। যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া।

নির্বিষ বোলিং:
ব্যাটাররা যে স্কোরবোর্ডে অনেক রান জড়ো করে দিয়েছেন, তেমনটা নয় মোটেও। তবুও ভারতীয় বোলিং লাইন আপ কিউই ব্যাটারদের উপর কিছুটা চাপ তৈরি করবে বলে আশা ছিল। কিন্তু সেই আশার ছিঁটেফোটাও বাস্তবে ঠাঁই পেল না। একেবারেই নির্বিষ বোলিং করলেন ভারতীয়রা।

বিশেষত, যে পিচে সোধির স্পিনিংয়েই ভারতীয়রা বেঁধে গেলেন আষ্টেপৃষ্টে, সেখানে বরুণ চক্রবর্তী এবং রবীন্দ্র জাদেজা কার্যত কিছুই করতে পারলেন না। এমন নির্বিষ পারফরম্যান্সের সামনে শিশির এবং কম রানের লক্ষ্যমাত্রার অজুহাতও টিকবে না। এক জাসপ্রীত বুমরাহ অবশ্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একাই আর কিই-বা করতে পারেন?

যাইহোক, এই ম্যাচ শেষে টানা দুই হারে কার্যত সেমির রেস থেকেই ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলিরা। নিউজিল্যান্ডও যে এমন জয়ে খুব একটা এগিয়ে গেছে তাও কিন্তু নয়। গ্রুপ ২ থেকে সেমির দৌড়ে পাকিস্তানের পর কার্যত এখন এগিয়ে দুই ম্যাচ জেতা আফগানিস্তানই। অবশ্য ভারতের কাছে হারলে তেমনটা আর থাকবে না।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles