
কিছু বিদায় শুধু বিদায় নয়, হয়ে ওঠে একটি যুগের সমাপ্তি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও যেন তেমনই এক আবেগঘন রাত। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। গোল করেছেন নিজে, করিয়েছেন আরও দুটি—বিদায়টাও সাজিয়েছেন নিজের মতো করেই।
মেসির এমন স্মরণীয় বিদায়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘কিছু রাত পুরো একটি জীবনের গল্প বলে দেয়।’
আন্তোনেলার ভাষায়, গত রাতটিও ছিল তেমনই একটি রাত। মেসিকে অগণিত মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা দেখা, সমর্থকদের তাকে ধন্যবাদ জানানো এবং বছরের পর বছর তিনি তাদের যে আনন্দ দিয়েছেন, তার প্রতিদান দিতে দেখার মুহূর্তটি ছিল অসাধারণ।
মেসিকে ঘিরে মানুষের এই ভালোবাসা যে হঠাৎ পাওয়া নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন আন্তোনেলা। তিনি লিখেছেন, ‘এই ভালোবাসা তুমি অর্জন করেছ।’
তার মতে, মেসির ব্যক্তিত্ব, বিনয়, দায়বদ্ধতা এবং আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য সবসময় হৃদয় উজাড় করে দেওয়ার কারণেই মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।
মেসির পাশে থেকে এতটা পথ চলতে পারাকে নিজের জন্য বড় সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন আন্তোনেলা। তিনি লিখেছেন, ‘তোমার পাশে থেকে এই পথচলার অংশ হতে পারা কত বড় সৌভাগ্যের!’
মেসির জীবনের এত বড় একটি অধ্যায়ের এমন সুন্দর সমাপ্তি দেখতে পাওয়াটাও তার কাছে আনন্দের। ভালোবাসায় ভরা বার্তার শেষদিকে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘আমাদের এত কিছু শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ! আমরা তোমাকে ভালোবাসি! সবসময় তোমার সঙ্গে আছি।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে থেকেই মনুমেন্তালে ছিল উৎসব আর আবেগের ঢেউ। সতীর্থ, সাবেক ফুটবলার ও সমর্থকদের ভালোবাসায় সাজানো হয়েছিল তার বিদায়ের মঞ্চ। ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো তুলে ধরে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রদর্শনী ও ড্রোন শো। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিসহ নানা আয়োজনেও ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে মেসির বিশেষ অবস্থান।
মাঠেও অবশ্য শেষবারের মতো নিজের জাদু দেখিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী তারকা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮তম মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দিকে দিয়ে গোল করান মেসি। এরপর নিকো পাজের গোলেও অবদান রাখেন তিনি। মেসির বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে ব্যবধান ২-০ করেন পাজ।
এরপর পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন মেসি। এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট—আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ ম্যাচটিকেও তাই নিজের স্বাক্ষরে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গনে জড়ান মেসি। গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের করতালি আর স্লোগানে ভারী হয়ে ওঠে মনুমেন্তালের পরিবেশ।
একসময় যে জার্সি গায়ে চাপিয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বয়ে বেড়িয়েছেন, সেই জার্সিতেই এভাবে বিদায় নিলেন মেসি। আর মাঠের বাইরে তার সবচেয়ে কাছের মানুষটির কণ্ঠে উচ্চারিত হলো সেই উপলব্ধি—এই ভালোবাসা মেসি পেয়েছেন, কারণ তিনি তা অর্জন করেছেন।

