22 C
Toronto
বুধবার, আগস্ট ১০, ২০২২

পরকীয়ায় বাধা পেয়ে স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার নাটক

- Advertisement -
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানে গৃহবধূ ইফাত শরীফ মিশুকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী নুরে আলমকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পরকীয়ায় বাধা পেয়ে গত ১৩ জুন দুই শিশু সন্তানের সামনেই মিশুকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন আলম। এর পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান তিনি। তবে পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত বৃহস্পতিবার আলমকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, গৃহবধূ মিশু হত্যার অভিযোগে গত ১৪ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থানায় নুরে আলমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা মজিবর রহমান শরিফী। ওই মামলার আসামি নুরে আলম গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার ২৫ দিনেও তার পরকীয়া প্রেমিকা লুবানা আক্তার অনি ও মাজেদা বেগম নামে অন্য এক নারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মিশুর স্বজনদের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।

মিশুর বোন তামান্না তাসমিয়া বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে আলমের সঙ্গে মিশুর বিয়ে হয়। দক্ষিণ গোড়ানের আকাশ ভিলায় হুমাইরা আলম ও নিহাল নুর নামে দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন তারা। হুমাইরার জন্মের পর ডেমরার সারুলিয়া টেংরা

এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ির লুবানা আক্তার অনির সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আলম। এই নিয়ে মিশুর সঙ্গে আলমের প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হতো। আলম প্রায়ই মিশুকে মারধরও করত। এক সময় মিশু জানতে পারেন, অনির সঙ্গে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে আলম। প্রতিবাদ করলে আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা মিশুর ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়। এর জেরে গত ১৩ জুন সকালে গোড়ানের বাসায় মিশুর সঙ্গে আলমের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আলম মিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

তাসমিয়া আরও জানান, এর আগে সেদিন বেলা ১১টার দিকে মিশু ফোন করে তার মাকে জানায়, তিন আসামি মিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করছে; যা তিনি শুনেছেন। স্ত্রীর কাছে এ খবর শুনে মিশুর বাবা মজিবর রহমান ফের মিশুর ফোনে কল দিলে আর সাড়া মেলেনি মেয়ের। দুপুর ২টার দিকে আলমের বন্ধু মো. সোহেল সরকার মিশুর খালু ফিরোজ আলমকে ফোন করে জানায়, মিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়েই ফিরোজ আলম স্বজনদের নিয়ে কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন মিশুর লাশ ফেলে অনেক আগেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন আলম। সেখান থেকে মিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মিশুর বাবা আলমের বাসায় গিয়ে আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে এবং শিশুর শোবার ঘরের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মজিবর রহমান নিশ্চিত হন, আলমের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর তিন আসামি মিলে মিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ওড়না দিয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। পরে ঢামেক মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন মজিবর রহমান। মিশু হত্যায় তার স্বামী ও পরকীয়া প্রেমিকার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নিহতের মা, বাবা, এলাকাবাসী, শিক্ষকরা ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু কাজ হয়নি। রহস্যজনক কারণে পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো, গোপনে জামিন নিতে গেলে আদালত কারাগারে পাঠায় আলমকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তামান্না তাসমিয়া।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সরোয়ার খান রাসেল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে গতকাল শুক্রবার জানান, আসামি নুরে আলমকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি এখনো হত্যার দায় স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করছেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যাই করেছেন। হাসপাতালে নিহতের স্বজনরা একে একে আসতে থাকায় ভয়ে তিনি লাশ ফেলে পালিয়েছিলেন। তার সব তথ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে শেষে শনিবার (আজ) নুরে আলমকে আদালতে পাঠানো হবে। পলাতক থাকায় অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles