তাজমীনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সুমন

তাজমীনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সুমন - the Bengali Times
জান্নাতুল তাজমীন

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমীন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাজমীনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সুমন।

শনিবার সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

- Advertisement -

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকায় ধানখেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে তার বাবা এসে লাশটি জান্নাতুল তাজমীনের বলে শনাক্ত করেন।

তাজমীন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লায় রেনাটা পিএলসিতে কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত তাজমীন।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার সুমনের দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমীন। ৩০০ টাকা ভাড়ায় সুমন তাকে নিয়ে রওনা হন।

পথে সুমন তাজমীনের জন্য ১০০ টাকার কলা ও রুটি কিনে দেন। তবে রেসকোর্সের দিকে না গিয়ে তিনি অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়কের দিকে নিয়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমীন ভয় পেয়ে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে তাজমীন। পুলিশের দাবি, নির্জন এলাকায় সুমন তাকে ধরে ফেলেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন। তাজমীন চিৎকার ও ধস্তাধস্তি শুরু করলে সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। পরে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

হত্যার পর তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ, আইফোন ও স্কুলব্যাগ নিয়ে নেন সুমন। ভ্যানিটি ব্যাগটি পাশের ধানখেতে ফেলে দেন তিনি। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কাছিকাটা মসজিদের পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে আইফোনটি সেখানে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাগমারা এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সুমনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles