নুসরাত হত্যা: সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন গ্রেপ্তার
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নুসরাত জাহান রাফি ও রুহুল আমিন
আগুনে পুড়িয়ে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নুসরাত হত্যায় এ নিয়ে এজাহারভুক্ত আটজনসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তাকিয়া রোডের বাসা থেকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুলকে আটক করে।

নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার পর থেকেই রুহুল আমিনের দিকে অভিযোগের তীর বিদ্ধ হচ্ছিল। মামলার আসামিদের জবানিতেও নুসরাত হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তার নাম আসে। কিন্তু তাকে ধরতে প্রশাসনের ছিল এক ধরনের অনীহা। তবে, পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার একটি চ্যানেলের টক শোতে বলেছিলেন, তার দিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে। প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করব। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পিবিআই প্রধানের কথাই সত্যি প্রমাণিত হলো। 

এর আগে, নুসরাত হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক আসামি তাদের জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন। গত রোববার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম। জবানবন্দি শাহাদাত বলেন, নুসরাতের শরীরের আগুন দেওয়ার পর তিনি রুহুল আমিনকে বিষয়টি মোবাইলে জানান। তখন রুহুল আমিন তাঁকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি তোমরা চলে যাও।’ মূলত শাহাদাতের জবানবন্দির পর থেকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রুহুলের যোগসাজশ আছে, এমন অভিযোগ জোরালো হতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারে রুহুল আমিনের নাম নেই।

এলাকারবাসীর অভিযোগ, শ্লীলতাহানির মামলায় গত ২৭ মার্চ যখন অধ্যক্ষ কারাগারে যান, তখন রুহুল আমিনের লোকজন প্রতিবাদকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ২৮ ও ২৯ মার্চ তাঁর লোকজন অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২৭ মার্চ আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতকে ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ ও আবদুল কাদের জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার আদালতে শরিফ জানান, মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে নুসরাতকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য তারা কারাগারে থাকা মাদরাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফায় দেখা করেন। শরিফ জবানবন্দিতে আরও জানায়, ৪ এপ্রিল রাতে ১২ জনের এক সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তার দায়িত্ব পড়ে মাদরাসার গেট পাহারার। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও তার সাথে ছিলেন। মাদরাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এছাড়া ছাদে ছিলেন কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি।

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৫৮:৪০