মামদানির সিরীয় সুন্দরী শিল্পী স্ত্রী নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি

মামদানির সিরীয় সুন্দরী শিল্পী স্ত্রী নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি - the Bengali Times
জোহরান মামদানি রামা দুওয়াজি ছবি সংগৃহীত

ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ও নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৩ বছর বয়সী সদস্য জোহরান মামদানি শহরটির ‘মেয়র’ নির্বাচিত হয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের সন্তান। নিউইয়র্কের প্রথম বামপন্থী মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর ব্যক্তিজীবনও এখন আলোচনায়।

জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজি সিরীয়-আমেরিকান শিল্পী। জোহরানের রাজনৈতিক প্রচারণার সময় থেকেই তিনি গণমাধ্যমের নজরে আসেন। অনেকের মতে, স্বামীর এই জয়ের পিছনে তাঁর ভূমিকাই প্রধান। র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা জোহরানের স্ত্রী রামার নিজস্ব একটি পরিচয়ও আছে। ২৮ বছর বয়সী এই সিরীয়-আমেরিকান শিল্পীর জন্ম টেক্সাসের হিউস্টনে। মাত্র ৯ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাই চলে যান তিনি। ইলাস্ট্রেটর ও অ্যানিমেটর হিসেবে নিউইয়র্কে কর্মজীবন শুরু করেন রামা। এরই মধ্যে বহু নামকরা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পকর্মের কাজ করেছেন তিনি।

- Advertisement -

জোহরান-রামার পরিচয় একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। এই বছরের শুরুতেই তাঁদের বিয়ে হয়। নির্বাচনের দিন বিখ্যাত শাশুড়ি মীরা নায়ার পুত্রবধূকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘প্রিয় বধূ, নতুন দিনে আমাদের শহরেও শিল্প ফুটবে।’ সঙ্গে ছিল একটি হৃদয় ইমোজি। রামা দুওয়াজি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি হতে চলেছেন। তবে তিনি এখনও জানাননি, এমন কোনো সরকারি পদ তিনি নেবেন কিনা।

জোহরান মামদানির বাবা-মায়ের জীবনকাহিনিও কম চমকপ্রদ নয়। প্রথম স্বামী মার্কিন ফটোগ্রাফার মিচ এপস্টাইনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মীরা নায়ারের পরিচয় হয় উগান্ডায় তাঁর বর্তমান স্বামী মাহমুদ মামদানির সঙ্গে। মাহমুদ মামদানি ইন্দো-উগান্ডান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ‘মিসিসিপি মশালা’ ছবির গবেষণার কাজে উগান্ডায় গিয়েছিলেন মীরা। সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং ১৯৯১ সালে বিয়ে।

গুজরাটি বংশোদ্ভূত মাহমুদ ও মীরা পরে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় চলে আসেন। বর্তমানে মাহমুদ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আফ্রিকান স্টাডিজ পড়ান। মাহমুদের জন্ম ১৯৪৬ সালে তৎকালীন বোম্বেতে। গুজরাটি পরিবার পরে উগান্ডার কাম্পালায় চলে এলে সেখানেই বড় হন তিনি।

মীরার ছেলে জোহরানের জন্ম ১৯৯১ সালে উগান্ডার কাম্পালাতেই। ২০২০ সালে জোহরান নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। জোহরান মামদানি ইহুদিবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষা পেয়েছেন মা মীরার কাছ থেকেই।

২০১৩ সালে ইসরায়েলের হাইফা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে মীরা নায়ারকে গেস্ট অফ অনার করার আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরায়েলের নীতির বিরোধিতা করে তিনি সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েল দখলমুক্ত করলেই কেবল তিনি সেদেশে যাবেন। ২০১২ সালে তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল মীরা নায়ারকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেন।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles