অন্টারিওতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ১০, লাইফজ্যাকেট না পরাই বড় কারণ

অন্টারিওতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ১০, লাইফজ্যাকেট না পরাই বড় কারণ - the Bengali Times
গ্রীষ্মের শুরুতেই অন্টারিওর হ্রদ ও নদীতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে

গ্রীষ্মের শুরুতেই অন্টারিওর হ্রদ ও নদীতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রদেশের প্রভিন্সিয়াল পুলিশ (ওপিপি) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে প্রিন্স এডওয়ার্ড কাউন্টির ইস্ট লেকে, যেখানে দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সকল ভুক্তভোগীর পরনে লাইফজ্যাকেট ছিল না।

ওপিপির ইস্ট রিজিয়নের কমান্ডার চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট লিসা উইলহেল্ম বলেছেন, “লাইফজ্যাকেট জীবন বাঁচাতে পারে। এটি শুধু আইন মানার বিষয় নয়, এটি মানসিকতারও পরিবর্তন। আপনি পাওয়ারবোটে থাকুন বা ক্যানোতে যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকলে সামান্য দুর্ঘটনাও প্রাণঘাতী হতে পারে।” তিনি সকল প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুকে পানিতে নামার আগে লাইফজ্যাকেট পরার আহ্বান জানিয়েছেন।

- Advertisement -

কিংস্টন ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের মেরিন ইউনিট লেক অন্টারিও এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার চিফ ডন কার্টার জানিয়েছেন, যেসব ঘটনায় তারা সাড়া দিয়েছেন, প্রায় সবক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীদের লাইফজ্যাকেট ছিল না। সম্প্রতি একটি ছোট অ্যালুমিনিয়াম রেসকিউ বোট যুক্ত করা হয়েছে যাতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো যায়।

লাইফসেভিং সোসাইটি অন্টারিওর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ১০০ শতাংশ ঘটনার পেছনে পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব ছিল। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৭১ শতাংশ একা সাঁতার কাটছিলেন দুর্ঘটনার সময়। ৩৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫৭ শতাংশ। লাইফগার্ড উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে। বোটিং-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ৮৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা লাইফজ্যাকেট ব্যবহার করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে পানিতে নামার প্রবণতা বাড়ে। মদ্যপান, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা পর্যাপ্ত সাঁতারের দক্ষতার অভাব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ওপিপি জানিয়েছে, তারা নৌকা চালক ও সাঁতারুদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালাবে, যার মধ্যে লাইফজ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা, নৌযান নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশ ও উদ্ধার সংস্থাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে, লাইফজ্যাকেট পরা শুধুমাত্র আইন মানার বিষয় নয়, এটি জীবন বাঁচানোর সহজ ও কার্যকর উপায়। বিশেষ করে ছোট শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দুর্বল সাঁতারুদের ক্ষেত্রে লাইফজ্যাকেট না পরা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গ্রীষ্মের বাকি সময় জুড়ে অন্টারিওর হ্রদ, নদী ও সৈকতে এই প্রচারণা চলবে, যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles